বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু জাতিসংঘের।

১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় জাতিসংঘ সনদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। দিনটি প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ‘জাতিসংঘ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

দুটি বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিশ্বনেতাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয়, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সেই উপলব্ধি থেকেই গড়ে ওঠে জাতিসংঘ—একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার মূল লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা করা।

১৯৪৫ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে ২৪ অক্টোবর সনদটি কার্যকর হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ৫১টি দেশ এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য ছিল। বর্তমানে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তাসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তর বিশ্বের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক সংকট, যুদ্ধ, সংঘাত, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব বিশ্বসমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।

তবে প্রতিষ্ঠার আট দশক পেরিয়ে গেলেও জাতিসংঘের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত, শরণার্থী সংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংস্থাটির সমালোচনাও রয়েছে। তবু আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্র, মানবিক সহায়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

২৪ অক্টোবর তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি বিশ্ববাসীর জন্য শান্তি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার অঙ্গীকার নতুন করে স্মরণ করার দিন। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই দিনের মূল তাৎপর্য।

Translate