২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে স্পেনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যৌথ আয়োজক দেশগুলোর একটি মরক্কোকে আয়োজনের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্পেনের ক্ষমতাসীন বামপন্থী জোটের একাধিক সংসদ সদস্য।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হিসেবে রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এছাড়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের স্মরণে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনাকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর কনমেবলের সদর দপ্তর প্যারাগুয়েতে হওয়ায় দেশটিও একটি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।
তবে সম্প্রতি স্পেনের পার্লামেন্টে মরক্কোর আয়োজক হওয়ার উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্ষমতাসীন জোটের তিনটি রাজনৈতিক দলের ডেপুটিরা। তারা স্পেন সরকারকে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোকে যৌথ আয়োজকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে পর্তুগালের ক্ষমতাসীন লিবরা পার্টিও। দলটি এ বিষয়ে পর্তুগাল সরকার ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে।
এই দাবির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতা সীমান্তে মরক্কো থেকে ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা। স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে ঘিরে মানব পাচারকারীরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে বসবাসের সুযোগ মিলবে। সেই গুজবে বিশ্বাস করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার মরক্কোর নাগরিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে সেউতা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন।
পরে অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেলেও এই ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। স্পেনের বামপন্থী জোটের নেতাদের দাবি, একটি দেশের আর্থসামাজিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি কতটা নাজুক হলে এত মানুষ এভাবে জীবন বাজি রেখে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন, সেটিই মরক্কোর বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অন্যতম কারণ।