অ্যাবারফান বিপর্যয়—কয়লার বর্জ্যের নিচে চাপা পড়ে ১৪৪ প্রাণ।

১৯৬৬ সালের ২১ অক্টোবর, যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ছোট্ট গ্রাম অ্যাবারফানে ঘটে ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক খনি-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা। কয়লা খনির বর্জ্য দিয়ে তৈরি একটি বিশাল স্তূপ পাহাড়ের ঢাল থেকে ধসে পড়ে গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের বাড়িঘরকে মাটির নিচে চাপা দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনায় ১৪৪ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ১১৬ জনই ছিল শিশু।

দুর্ঘটনার দিন সকালে গ্রামটির ওপর নেমে আসে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। কয়লার বর্জ্যের স্তূপটি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের ঢালে জমা করা হচ্ছিল। ভারী বৃষ্টির কারণে স্তূপের ভেতরের মাটি ও বর্জ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিশাল কালো স্তূপটি ধসে দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ গ্রাস করে অ্যাবারফান গ্রামের একটি বিদ্যালয় ও কয়েকটি বাড়ি।

সেদিন শিশুরা বিদ্যালয়ে পাঠ নিচ্ছিল। হঠাৎ কয়লা, কাদা ও পাথরের বিশাল ঢল বিদ্যালয়টিকে ঢেকে ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দা, উদ্ধারকর্মী ও খনি শ্রমিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা নিজেদের হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশু ও অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই বিপর্যয় পুরো যুক্তরাজ্যকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। দুর্ঘটনার পর খনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পাহাড়ি ঢালের নিরাপত্তা এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। তদন্তে কয়লার বর্জ্যের স্তূপের নিরাপত্তা ও তদারকির গুরুতর ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে খনি বর্জ্যের স্তূপের ঝুঁকি মোকাবিলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি আরও শক্তিশালী হয়।

অ্যাবারফান বিপর্যয় আজও একটি গ্রামের গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে আছে। বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশুদের প্রাণহানির ঘটনা বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে বেদনার ছাপ রেখে গেছে। এই দুর্ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, শিল্পকারখানা ও খনিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের জীবনের সুরক্ষাকে কখনোই অবহেলা করা যায় না।

Translate