ঈদের লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটন রাজধানীখ্যাত কক্সবাজারে এখন ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ চলছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত পুরো মৌসুমজুড়ে সমুদ্রসৈকতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক পর্যটকের বিশাল সমাগম ঘটবে।
বুকিংয়ের ধুম ও বিশেষ ছাড়:
কক্সবাজার শহর ও আশপাশের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, অফ-সিজন পরবর্তী সময়ে রুম ভাড়ায় ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ২০-৩০ শতাংশ ছাড়ের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) নেতা এস এম কিবরিয়া জানান, আগামী ২৯, ৩০ ও ৩১ মে-এই তিন দিনের জন্য তারকা হোটেলগুলোর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ রুম ইতিমধ্যে বুকড হয়ে গেছে।
বর্ণিল সাজে সৈকত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি:
ঈদ উৎসবকে বরণ করতে কলাতলী মোড়, সুগন্ধা এবং লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান সৈকত এলাকাগুলোকে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে। সৈকতের কিটকট (বিচ ছাতা) ও বসার স্থানগুলো ওয়াটারপ্রুফ ব্যবস্থাসহ নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে।
সেন্টমার্টিন যেতে না পারা পর্যটকেরা এবার মূল কক্সবাজারেই পুরো সময় কাটাবেন, এমন আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। সৈকতের আচার বিক্রেতা মুজিব উল্লাহ, ফটোগ্রাফার একরাম উদ্দিন ও ব্যবসায়ী আমির হামজারা জানান, এবার শুধু শহরের মূল সৈকতই নয়, ঈদ অতিথি বরণে হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী এবং বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার সবকটি পর্যটন স্পটকে ইজারাদাররা নতুন করে সাজিয়েছেন।
অবশ্য হামের পাদুর্ভাবের কারণে শঙ্কাও আছে। টুয়াক সভাপতি আনোয়ার কামাল জানান অতিরিক্ত গরম ও সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যঝুঁকির (হাম) কারণে পর্যটক আবার কমতেও পারে। এছাড়া ৫ স্টার মানের হোটেলগুলোতে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে কিছু পর্যটক কক্সবাজারবিমুখ হচ্ছেন। আবার তীব্র টিকিট সংকটের কারণে অনেকেই আসতে পারছেন না। তাই পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী রেল কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে আরও দুটি স্পেশাল ট্রেন চালু করা দরকার।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের পুলিশ সুপারের (এসপি) নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘শহরের মূল তিনটি পয়েন্ট ছাড়াও পাটোয়ারটেক, ইনানী ও কবিতা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করবে।
হোটেল-মোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য তালিকায় অতিরিক্ত ভাড়া বা দাম আদায় করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, ‘এরকম অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর যৌথ নিয়মিত টহল জোরদার থাকবে।’