ঈদের টানা ছুটিতে রাঙামাটি জেলায় পর্যটকদের আগমন ঘিরে শহর, সাজেক ও কাপ্তাই এই তিন পর্যটনকেন্দ্রে ব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের। আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট-কটেজে এরই মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ ভাগ পর্যন্ত রুম বুকিং হয়ে গেছে। পাহাড়ের উচু-নিচু আকাঁবাকা রাস্তা, হ্রদ-ঝরনার সমন্বয়ে প্রকৃতির অপরূপ নন্দনকানন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই জেলা পর্যটকের পদচারণায় প্রায় সব ঋতুতেই মুখরিত থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম (৭২৫ বর্গকিলোামিটার আয়তনের) মিঠা পানির কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদের অকৃত্রিম বিশালতার সমন্বয়ে গঠিত এই জেলা। তাই প্রতিবছর ভ্রমন পিপাসু মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের আশায় ছুটে আসেন। শীতকালে এই সংখ্যা দুই-তিনগুণ বেড়ে যায়। প্রকৃতি এখানে যেন তার সব রূপ ও সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে।
রাঙামাটি শহরে পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদে নীল জলরাশিতে নৌভ্রমণ, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, সুবলং ঝর্ণা এলাকা, আসামবস্তি কাপ্তাই সড়ক, সাজেক ও কাপ্তাইয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। বছরে কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটকের উপস্থিতি থাকে রাঙামাটির তিন পর্যটনকেন্দ্রে। আবার বিশেষ দিনগুলোতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ হাজারে।
রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট ও সাজেকে ১১৬ টি হোটেল রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোতেই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কাপ্তাইয়ে বেশ কয়েকটি হোটেল রিসোর্ট রয়েছে।রাঙামাটির মিনি মালয়েশিয়া খ্যাত রাঙাদ্বীপ রিসোর্টের পরিচালক অলকব্রত চাকমা পূর্বকোণকে জানান, ঈদকে ঘিরে রিসোর্টের সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। প্রায় ২৫টি থ্রি স্টার মানের চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের এ রিসোর্টে রয়েছে স্পেশাল ক্যাসল বিল্ডিং, একসাথে দেড়শ জনের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউর রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স হল, চেয়ার ম্যাসাজ, স্পোর্টস জোন, কায়াকিং, ছোটদের জন্য এমিউজমেন্ট পার্ক, জিম, বোটিং সুবিধাসহ নানা ইভেন্ট। রয়েছে পুরুষ, মহিলা/শিশুদের জন্য আলাদা আলাদা সুইমিং পুল। রেস্টুরেন্টে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই ট্রেডিশনাল ফুডসহ সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের অধিকাংশ কক্ষও বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা। তিনি বলেন, ‘পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের পাশে নতুন করে সানরাইজ ইকো পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য। এছাড়া ঝুলন্ত ব্রিজটি সুসজ্জিত করা হয়েছে।’