ড. নো’ দিয়ে শুরু হয়েছিল কিংবদন্তি গোয়েন্দার সিনেমা-যাত্রা।
তবে ‘ড. নো’-এর আকর্ষণ শুধু এর রোমাঞ্চকর গল্পে সীমাবদ্ধ ছিল না। জ্যামাইকার নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত, সবুজ পাহাড়, গ্রীষ্মময় আকাশ ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য চলচ্চিত্রটিকে দিয়েছিল এক অনন্য নান্দনিকতা। সেই সঙ্গে দুর্ধর্ষ অভিযান, রহস্য, প্রযুক্তি ও অ্যাকশনের মিশেলে তৈরি হয়েছিল নতুন ধরনের গুপ্তচর চলচ্চিত্রের ভাষা।
লন্ডন, ৫ অক্টোবর ১৯৬২: সেদিন বড় পর্দায় আবির্ভূত হয়েছিল এমন এক চরিত্র, যিনি পরবর্তী ছয় দশকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন—জেমস বন্ড। ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট কাল্পনিক গোয়েন্দাকে নিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘Dr. No’ মুক্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বন্ডের দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর সিনেমা-যাত্রা।
টেরেন্স ইয়ং পরিচালিত ছবিটিতে প্রথমবার জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন শন কনারি। পরিপাটি পোশাক, ঠান্ডা আত্মবিশ্বাস, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ এবং বিপদের মুখেও স্থির থাকার অসাধারণ ক্ষমতা—কনারির বন্ড খুব দ্রুত দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।
ছবির গল্পে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর কর্মকর্তা জেমস বন্ডকে পাঠানো হয় জ্যামাইকায়। সেখানে ব্রিটিশ গোয়েন্দা জন স্ট্র্যাংওয়েজের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে বন্ড জড়িয়ে পড়েন রহস্য, ষড়যন্ত্র ও বিপজ্জনক অপরাধী ড. নো-এর পরিকল্পনায়।
মুক্তির পর ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং জেমস বন্ডকে পরিণত করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের এক স্থায়ী আইকনে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন অভিনেতার হাত ধরে বন্ড চরিত্রটি আরও বহুবার পর্দায় ফিরে আসে। কিন্তু শন কনারির প্রথম বন্ড-আবির্ভাব এবং ‘Dr. No’ আজও সিরিজটির ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা ধরে রেখেছে।
৫ অক্টোবর ১৯৬২ তাই শুধু একটি চলচ্চিত্র মুক্তির দিন নয়; এদিনই বিশ্ব চলচ্চিত্র পেয়েছিল তার অন্যতম জনপ্রিয় ও দীর্ঘস্থায়ী চরিত্র—জেমস বন্ড।