শুক্রবার ২২শে মে, ২০২৬

রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় কক্সবাজারের আহত ৭১ জুলাইযোদ্ধা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ছাত্র ও বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলার ৭১ জন আহত জুলাইযোদ্ধাকে আজীবন মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে ইতিমধ্যে এই ভাতার অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা জমাও হয়েছে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং মাঠ প্রশাসনের যৌথ যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এই উদ্যোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পুরো বিষয়টি তদারকি করছে। আহত যোদ্ধারা যাতে কোনো ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই তাদের প্রাপ্য সম্মান ও আর্থিক সুবিধা পান, সে লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের আহত বীরদের প্রতি রাষ্ট্রের একটি যুগোপযোগী ও সম্মানজনক স্বীকৃতি।

সোনালী ব্যাংক কক্সবাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার পরিধি ও শারীরিক ক্ষতির তীব্রতা বিবেচনা করে আহতদের মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে (এ, বি এবং সি) বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতি যোদ্ধার জন্য ২০ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরির জন্য ১৫ হাজার এবং তুলনামূলক কম আহত ‘সি’ ক্যাটাগরির জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কক্সবাজার জেলায় ‘এ’ ক্যাটাগরিতে কেউ তালিকাভুক্ত না হলেও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৬ জন এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৬৫ জন এই ভাতা পাচ্ছেন।

বি’ ক্যাটাগরির তালিকায় আছেন মো. মানিক, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ফজল করিম, রশিদ মিয়া এবং মো. আব্দুল্লাহ আল সাহাব।

‘সি’ ক্যাটাগরি তালিকায় আছেন মোহাম্মদ ইসলাম ফাহিম, মোহাম্মদ তাওসিফ, সাখাওয়াত হোসাইন, নাদিম মোহাম্মদ আদনান, রিয়াদ সুলতানা নূরী, মোহাম্মদ সাহাব, ওয়াহিদুল মুস্তাকিম, জুনায়েদ খান রাহাত, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, হাসান মোহাম্মদ তুর্কি, মোহাম্মদ আইমান ফারুকী, মো. আবান, সাখাওয়াত মোহাম্মদ সাকিব, নাজমুল হাসান, মো. ইনজামামুল হক, অকিল বিন জাকের, মো.শাহরিয়ার শাহীন, শাহরিয়ার হোসেন জিদান, মোহাম্মদ মুশিকুর রহমান নয়ন, একরামুল হক, মোহাম্মদ আফসার উদ্দিন, মোহাম্মদ মুসলিম, রাশেদা আক্তার, মোহাম্মদ সৈয়দ আকবর, আবুল কালাম, মো. শাহেদ, রিয়াজউদ্দিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সেলিম আহমেদ তানভীর, আতিকুল ইসলাম অভি, সলিমুল্লাহ, মো. দেলোয়ার হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মো. হাসান, সায়েদ মোহাম্মদ শামীম, সাইফুল ইসলাম, সাকিবুল ইসলাম, মোকসদুল মুনতাকির, মাইনুল হাসান জিহাদ, আব্দুল্লাহ, মো. রাসেল, রেজাউল করিম, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহজাহান, জিয়াউল হক, মোহাম্মদ আরিফ, শামীম ইকবাল, ইমরান ইবনে আমির, বোরহানউদ্দিন রিমন, প্রেম হরিজন, কামাল উদ্দিন, হোসেন (হোসেন জোহর), আহনাফ হোসেন ইস্পান, মোহাম্মদ মোবারক, মো. শাকিল, আমিনুল হাসান রাহি, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, রবিউল হাসান, মুনশাইর ইসলাম, সাইফুল ইসলাম মামুন, রায়হান ইসলাম, হারুন অর রশিদ এবং বেলাল উদ্দিন।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত ৩ ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাতার প্রথম কিস্তি (বিগত এপ্রিল মাসের অংশ) উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে গেছে।

ইতিমধ্যে প্রত্যেক ভাতাভোগীর মুঠোফোনে তাদের সুনির্দিষ্ট আইডি নম্বর, কেস আইডি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের বিবরণসহ ভাতার পরিমাণ সংবলিত ডিজিটাল বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত এই জুলাইযোদ্ধারা প্রতি মাসেই নির্ধারিত পরিমাণের এই ভাতা নিয়মিত প্রাপ্য হবেন। মূলত, অভ্যুত্থানের বীরদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের ব্যয় মেটাতেই রাষ্ট্র এই স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা চালু করেছে।

Translate