শুক্রবার ২২শে মে, ২০২৬

শপথমঞ্চে ‘রাহুল গান্ধী জিন্দাবাদ’, তামিলনাড়ুতে নতুন বিতর্কে কংগ্রেস মন্ত্রী

তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কংগ্রেস নেতা এস রাজেশ কুমারের ‘রাহুল গান্ধী জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর।

তামিলনাড়ুতে এবার ঐতিহাসিকভাবে সরকারে জায়গা পেয়েছে কংগ্রেস। প্রায় ছয় দশক পর দক্ষিণের এ রাজ্যে আবারও মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করেছে দলটি।  অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের শরিক হিসেবে কংগ্রেসের দুই বিধায়ক মন্ত্রী হয়েছেন।

এর মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠানের একটি ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। জানা গেছে, কিলিউর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস বিধায়ক এস. রাজেশ কুমার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আচমকাই দলের প্রয়াত নেতা কামারাজ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

শপথ শেষে তিনি বলেন, ‘কামারাজ অমর রহে’, ‘ভারতরত্ন রাজীব গান্ধী অমর রহে’ এবং ‘জননেতা রাহুল গান্ধী জিন্দাবাদ’।

এ স্লোগান শুনে মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটা আপনার শপথের অংশ নয়।  রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরও রাজেশ কুমারের মুখে হাসি দেখা যায়।  ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

বিরোধী দলগুলোর একাংশের অভিযোগ, সাংবিধানিক শপথের মতো গুরুতর অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান দেওয়া শোভন নয়। অন্যদিকে কংগ্রেস সমর্থকদের দাবি, এটি ছিল আবেগের বহিঃপ্রকাশ এবং দলের ঐতিহাসিক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি মুহূর্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি স্লোগান বিতর্ক নয়, বরং তামিলনাড়ুর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেরও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে দ্রাবিড় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাজ্যটিতে এবার নতুন শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে থালাপতি বিজয়ের দল।

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে পৌঁছতে পারেনি বিজয়ের দল। পরে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থনে সরকার গঠন সম্ভব হয় এবং দলটির দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের জন্য এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ গত দুই দশক ধরে ডিএমকের সঙ্গে জোটে থাকলেও দলটি কখনও মন্ত্রিসভায় জায়গা পায়নি। এবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারে অংশীদার হওয়ায় দলের ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস রয়েছে। এস রাজেশ কুমারের স্লোগান সেই আবেগ থেকেই এসেছে বলে কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে।

তবে সাংবিধানিক শপথ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগান কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েই এখন বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শপথ অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্ত বা রাজনৈতিক স্লোগানের নজির আগেও দেখা গেছে।

তবে রাজ্যপালের সরাসরি আপত্তি জানানোর ঘটনা খুব একটা সাধারণ নয়। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও বিরোধী রাজনীতির টানাপোড়েনও নতুন করে সামনে এসেছে।

Translate