ভুল স্বীকার করে ইতালিতে ফিরলেন মানচিনি, চাইলেন ক্ষমা

নানা নাটকীয়তার পর আবারও ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন রবার্তো মানচিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই অতীতের সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইউরোজয়ী এই কোচ।

২০১৮ সালে প্রথমবার ইতালির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মানচিনি। তার অধীনেই ২০২১ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় আজ্জুরিরা। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি।

২০২৩ সালের আগস্টে হঠাৎ করেই ইতালির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মানচিনি। তার মাত্র দুই সপ্তাহ পর সৌদি আরব জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অনেকেই তার এই সিদ্ধান্তকে ইতালির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছিলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই সিদ্ধান্তকে নিজের ক্যারিয়ারের বড় ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন ৬১ বছর বয়সি এই কোচ। বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে মানচিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। যা ঘটেছিল, তা যেন নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় কিছু হারানোর মতো কষ্টের ছিল। আমি একটি বড় ভুল করেছি। গত তিন বছরে যা কিছু ঘটেছে, তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। জাতীয় দলকে আবার তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

সৌদি আরবে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি আমার ভুল ছিল। গ্রাভিনার সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে এর সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।’

এপ্রিল মাসে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারায় ইতালি। এরপর প্রধান কোচের পদ ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। নতুন কোচ খুঁজতে গিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

অন্যদিকে, রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের কারণে আন্দ্রেয়া পিরলোকেও বিবেচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আবারও মানচিনির হাতেই দায়িত্ব তুলে দেয় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমের স্টাদিও অলিম্পিকোতে উয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করবেন মানচিনি। সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি কিছু মানুষ এখনও আমার ওপর ক্ষুব্ধ। তবে আমি আশা করি দলের ভালো পারফরম্যান্স দেখে তারা আমাকে ক্ষমা করে দেবে।’

দলের বর্তমান অবস্থা নিয়েও আশাবাদী মানচিনি। তার মতে, ইতালির সামনে এখনও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। ফরোয়ার্ড ও উইং পজিশনে আমাদের বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করতে পারে। মইসে কিনকে জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ আমিই দিয়েছিলাম এবং তাকে ভালোভাবে চিনি। এমনকি নিকোলো জানিওলো সিরি আ-তে নিয়মিত খেলার আগেই তাকে প্রথম দলে ডেকেছিলাম।’

Translate