আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন ঘটনার জন্ম দিয়েছে ইরান। দলটির তারকা ফুটবলারদের একজন সরদার আজমুনকে সরকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকার অভিযোগে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব হবে বিশ্বকাপ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইরানের অংশগ্রহণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়, তাহলে আজমুনের অনুপস্থিতি দলটির জন্য বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে। ৩১ বছর বয়সী আজমুন ইরানের অন্যতম পরিচিত ফুটবলার। জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ, বেয়ার লেভারকুসেন ও রোমার মতো ক্লাবে খেলেছেন তিনি। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তাছাড়া ২০১৪ সালে অভিষেকের পর ইরানের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করেছেন। এই স্ট্রাইকার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলছেন। সম্প্রতি দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে বিতর্কে জড়ান আজমুন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জেরে ইরান তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছিল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনেও জাতীয় দলের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আজমুনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আজমুন ছবিটি সরিয়ে ফেললেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এ বিষয়ে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এদিকে, নোভাদ নিউজ চ্যানেলের এক খবরে দাবি করা হয়েছে, আজমুন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফরোয়ার্ড মেহদি ঘায়েদি ও সাবেক আন্তর্জাতিক সোরুশ রাফিয়ের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।