আমার ছেলে তিন বছর বয়স থেকেই জিনিয়াস ছিল: ইলন মাস্কের মা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক মাত্র তিন বছর বয়সেই জিনিয়াস বা অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা মে মাস্ক। সম্প্রতি প্রকাশিত নিজের নতুন স্মারক গ্রন্থ ‘টাইমলেস: দ্য আর্ট অফ রিইনভেনশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স অ্যাট এনি এজ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য প্রকাশ করেন ৭৮ বছর বয়সী এই সুপারমডেল ও পুষ্টিবিদ।

মে মাস্ক জানান, ইলন যখন তিন বছরের শিশু, তখনই তিনি বড়দের মতো যুক্তি দিয়ে কথা বলতেন। কেনাকাটা করার সময় কোনটা কিনলে খরচ কম হবে, সে বিষয়েও তিনি বিশ্লেষণ করতেন। শৈশবেই তার এই অসাধারণ প্রতিভা ও ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ইলনের বাবা এরল মাস্কের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের নানা তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে ডিভোর্সের পর তিন সন্তানকে একা হাতে বড় করার কঠিন সংগ্রামের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বহু আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে সন্তানদেড় মানুষ করতে হলেও সন্তানদের কঠোর পরিশ্রমী ও স্বাধীনচেতা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে মে মাস্ক তার ছেলের প্রতি সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইলন বিশ্বকে আরও ভালো করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, অথচ তাকে খলনায়ক বা বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। রাজনীতি ও সামাজিক মাধ্যমে ইলনের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলেও একজন মা হিসেবে তিনি সবসময় ছেলের পাশেই আছেন। কোনো নেতিবাচক প্রচারণাই ইলনের উদ্ভাবনী চেতনাকে থামিয়ে দিতে পারবে না বলে তিনি শক্ত মনোভাব ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে ইলন মাস্ক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং সামাজিক মাধ্যম এক্স-সহ একাধিক বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মে মাস্ক তার এই বইয়ে নিজের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং একজন মা হিসেবে ইলনের শৈশব থেকে আজকের অবস্থান পর্যন্ত আসার এক অনন্য চিত্র তুলে ধরেছেন।

Translate