মঙ্গলবার ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬

আওয়ামী সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ।

আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে ২৪ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

চব্বিশে জুলাই ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পূর্ববর্তী ১৫ বছরে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এসব ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রমও চালানোর কথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের পরিবার আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত পূর্ববর্তী সহিংসতার তালিকা তৈরির ও তদন্তের আহ্বান জানান। একইসাথে, আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

আবরার ফাহাদের বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে শুধু দেশ ও মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সে অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, দেশের স্বার্থেই কথা বলেছিল। আজও তার মা ছেলের জন্য কান্না করেন। আমি চাই না, আর কোনো মা তার সন্তান হারাক।”

এ সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ করেন, সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, যিনি বর্তমানে বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, বলেন, “আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। পর্যাপ্ত ল্যাব, সরঞ্জাম ও সহায়ক পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। আমরা চাই, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “বুয়েটে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও এমন বহু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।”

সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদের ওপর চালানো নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ২৪ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর হামলায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হবে। এছাড়াও, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়েও আলাদা তদন্ত চলছে। সরকার ইতিমধ্যেই এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।”

Translate