তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন পেলে, আর ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি হয়েও তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। এর কারণ ছিল পুরস্কারটির যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম, পারফরম্যান্সের ঘাটতি নয়।
১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ব্যালন ডি’অর চালু করে। শুরুতে শুধু ইউরোপের ফুটবলাররাই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতেন। ফলে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে ক্যারিয়ারের বড় অংশ কাটানো পেলে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেও পুরস্কারটির জন্য যোগ্য ছিলেন না। একই নিয়মের কারণে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো ম্যারাডোনাও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি।
কবে বদলায় নিয়ম?
১৯৯৫ সালে নিয়ম পরিবর্তন করে ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারদের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়। ওই বছর লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন। ২০০৭ সালে বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো ক্লাবে খেলা ফুটবলারদের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়। তবে ততদিনে পেলে ও ম্যারাডোনা দুজনই অবসর নিয়েছিলেন।
প্রতিযোগিতামূলক ব্যালন ডি’অর না জিতলেও দুজনই পেয়েছেন সম্মানসূচক স্বীকৃতি। ১৯৯৫ সালে ম্যারাডোনা এবং ২০১৩ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পেলে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর পান। এসব সম্মাননা অবশ্য প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক বিজয়ীদের তালিকায় গণ্য হয় না।
বর্তমানে লিওনেল মেসি আটবার এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।