মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬

৮ মাসেও টাকা, দিরহাম, রিয়ালের হদিস নেই: কর্ণফুলীর আলোচিত ডাকাতির তদন্তে ধীর গতি।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে হেফজখানা ও এতিমখানায় ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়েরের ৮ মাস পার হলেও পুলিশের তদন্তে অগ্রগতি নেই।

৫ লাখ টাকা, দিরহাম ও রিয়াল লুট হলেও আজও উদ্ধার হয়নি একটি টাকাও। মামলার আসামিরা অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই—যা পুলিশের কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চরপাথরঘাটার খোয়াজনগর এলাকায় আলত্বাফিয়া ইয়াছিনিয়া আল এজাজ ইন্টারন্যাশনাল হেফজ ও এতিমখানায় ঘটে ডাকাতির ঘটনা। ঘটনার রাতেই জনতার সহায়তায় চারজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক মামলা করেন কর্ণফুলী থানায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ, হামলাকারীরা ‘ একটি গোয়েন্দা টিম’ পরিচয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে অস্ত্র খোঁজার নামে বিভিন্ন রুম তল্লাশি করে। এক পর্যায়ে লকার ভেঙে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা এবং ওয়ারড্রপ থেকে প্রায় ৬ হাজার দিরহাম ও রিয়াল লুট করে তারা। পালানোর সময় চারজন ধরা পড়লেও বাকিরা টাকা ও ওয়াকিটকি নিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলার ৯ আসামির মধ্যে একটি সংস্থার পরিচয়দানকারী ভুয়া কর্মকর্তা, সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি ও পরিবহন শ্রমিক নেতা।

কর্ণফুলী থানায় দায়েরকৃত মামলাটি (নম্বর ৯(৯)/২৪) বর্তমানে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল। তবে মামলাটি যৌথ এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় তা সেনা আইনের আওতায় বিচারযোগ্য বিবেচিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলায় একজন ছাড়া বাকি আসামিদের অনেকে জামিনে থাকলেও বাকিরা পলাতক। মূলত যাদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত। আদালতের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আরো জানা গেছে, গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ কান্তি দে কারাগারে রয়েছেন। মো. শফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সাত্তার টিটু হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। সুমন কান্তি দে চার্জশিট হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালত হতে জামিনে রয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি বারবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলছেন, ‘তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে মামলার তদন্ত করছে, লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’ তবে এতদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও সম্ভবত প্রভাবশালীদের চাপের কাছে নতিস্বীকারের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত একটি জঘন্য ডাকাতির ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সময়ের দাবি। পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণ ও স্বচ্ছতা ছাড়া এ মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা ফিরবে না।

Translate