জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) সানকিরেড্ডি ভীম রেড্ডিকে গ্রেফতার করেছে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থানে টানা তল্লাশি অভিযান শেষ করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার নামে ও বেনামে থাকা প্রায় ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদের সন্ধানও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
হায়দরাবাদের পুলিশ কম্পিউটার সার্ভিসেস (পিসিএস)-এ কর্মরত এই ডিএসপিকে সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে ইব্রাহিমবাগের ভেসেলা মিডোজ এলাকায় তার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে নির্দিষ্ট এসিবি আদালতে হাজির করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতে, ভীম রেড্ডি তার চাকুরিজীবনে বিভিন্ন দুর্নীতি ও সন্দেহজনক উপায় অবলম্বন করে নিজের বৈধ আয়ের উৎসের চেয়ে বিপুল পরিমাণ অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
গত ২ জুলাই তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকজুড়ে এই পুলিশ কর্মকর্তার বাসভবনসহ তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহযোগী এবং কথিত বেনামি ১৬টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এর চার দিন পর, অর্থাৎ সোমবার (৬ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করলো এসিবি।
অভিযান চালিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তার নামে-বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে: হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগের ভেসেলা মিডোজে একটি ভিলা, টেলিকম নগরে একটি তিন তলা আবাসিক ভবন (জি+২+পেন্ট হাউস), টেলিকম নগরের সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট, গাচিবৌলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট, মনিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের অংশীদারত্ব (জি+৫), মনিকোন্ডা মারিচেট্টু জংশনের কাছে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস, তেল্লাপুরের অভিনন্দন রেসিডেন্সিতে দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট, প্রগতি রিসোর্টসে ৫০০ বর্গগজের একটি ওপেন প্লট, সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে ৩.৫ একর কৃষিজমি, কর্ণাটকে ৬ একর কৃষিজমি, কর্ণাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি, বেঙ্গালুরুর দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি, নাগোরের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি ওপেন প্লট, পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি ওপেন প্লট, পাটানচেরুতে ২০০ বর্গগজের আরও একটি ওপেন প্লট, ভিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একখণ্ড জমি, মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি, মেসার্স শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস-এ ৭৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ, এবং সিসি কুন্টার মুচিনতালা গ্রামে ৪.২০ একর কৃষিজমি।
তা ছাড়া, তল্লাশি চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মকর্তার বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রুপি এবং তার এক বেনামি বাড়ি থেকে আরও নগদ ৪০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২ কেজি ওজনের স্বর্ণের গহনা এবং প্রায় ২০ কেজি ওজনের রুপার সামগ্রী জব্দ করেছে এসিবি। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ লাখ ৯১ হাজার রুপি থাকার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
এই কর্মকর্তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ব্যক্তিগত হাতে লেখা ডায়েরি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং তদন্তে গতি এনেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে স্ত্রীর সঙ্গে চারধাম তীর্থযাত্রায় বের হওয়ার আগে ভীম রেড্ডি এই ডায়েরিটি লিখেছিলেন। ডায়েরিটিতে তার যাবতীয় সম্পত্তি, বিনিয়োগ, দায়দেনা এবং তার কথিত বেনামি নামের তালিকা রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আগে এই ডায়েরির স্ক্যান করা কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজের দুই ছেলের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। কর্মকর্তারা এই ডায়েরিটিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলার একটি অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ এটি তাদের বেশ কিছু সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতে সরাসরি সাহায্য করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি