মঙ্গলবার ৭ই জুলাই, ২০২৬

অবশেষে দূর হলো শেষ বাধা

নানা জটিলতা কাটিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে হিজড়া খাল সম্প্রসারণ করতে ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এর ফলে ৩ মিটার প্রশস্ততার এই খাল ৭ মিটার থেকে সাড়ে ৯ মিটার পর্যন্ত বড় করা সম্ভব হবে। যা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ভ‚মিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী।

সংশ্লিষ্টরা জানান- নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জ মাড়িয়ে ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে হিজড়া খালে কাজের অগ্রগতি ছিল ৬৯ শতাংশ। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের অধীনে হিজড়া খাল সম্প্রসারণের কাজ আটকে ছিলো। এখন অধিগ্রহণের অনুমতি মিলায় এই প্রকল্পের ‘শেষ প্রতিবন্ধকতাও’ দূর হল।

গত ১ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিগ্রহণ শাখা-২ হিজড়া খালের জন্য ২ দশমিক ৫৩৫৫৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এরপর গত ৫ জুলাই (রবিবার) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকদের নিকট ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ৭ ধারার চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন পাওয়ায় এখন ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে হিজড়া খালের কাজ শেষ হলে পুরো প্রকল্পের প্রায় ৯৯ শতাংশ অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, এতদিন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় অনেক ভূমি মালিক তাদের জমি ছাড়েননি এবং আমাদের এক প্রকার আইনি বাধাও ছিল। ফলে হিজড়া খালের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশে আমরা কাজ করতে পারিনি। এখন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন এবং জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণের জন্য ৭ ধারার নোটিশ প্রদান করায় ভূমি মালিকরা আশ্বস্ত হবেন। দ্রুত জমি ছাড়বেন। ফলে হিজড়া খাল সম্প্রসারণে দ্রুত কাজ চালিয়ে নিতে পারবো।

আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে হিজড়া খালের রিটেইনিং ওয়াল ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ করে প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য কাজ চালিয়ে নিবেন বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ হিজড়া খালের সংস্কারে উভয় পাশ থেকে দালান, সেমিপাকা, নির্মাণাধীন ভবন ও বহুতল ভবনসহ মোট ১৩৭টি স্থাপনার উচ্ছেদ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১২১টি ভবন ভাঙা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে বাকি ১৬টি স্থাপনাও ভাঙা হবে। হিজড়া খালের ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনা ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, হিজড়া খালের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করা যায়নি। তবে কিছু কিছু এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জমি মালিকের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে অধিগ্রহণের আগেই জমি নিয়ে কাজ করেছে। তবে কেউ কেউ অধিগ্রহণ ছাড়া জমিতে সংস্কার কাজ করতে দেননি। ফলে হিজড়া খালের অনেক জায়গায় কাজ করা যায়নি। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এখন সেই প্রতিবন্ধকতাও দূর হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় শেষ হয় ২০২০ সালের জুন মাসে। সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া নতুন আরডিপিপি অনুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ব্যয় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা এবং সময় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সিডিএ। এরপর ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৯৫ শতাংশ।

Translate