মঙ্গলবার ৭ই জুলাই, ২০২৬

৩৩ বছরের রেকর্ড বৃষ্টির মধ্যেই অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা

চট্টগ্রামে গত দু’দিন ধরে টানা বর্ষণে নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার (সকাল ৯টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

রেকর্ড এ বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো শিক্ষার্থী। সন্তানদের নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সময়মতো পরীক্ষা দিতে পারা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরাও।

গত সোমবার রাত থেকে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, শোলকবহর, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়। কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

আজ সকালে পরীক্ষা দিতে বের হওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অনেককে জলমগ্ন সড়ক পাড়ি দিতে হয়েছে। কোথাও রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট, আবার কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়। অনেক শিক্ষার্থী ভিজে পোশাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছায়। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘর থেকে বের হলেও জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হয়।

চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‌‘সকাল থেকেই বৃষ্টি। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সন্তানকে নিয়ে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।’

শিক্ষার্থীদের অনেকে জানান, পরীক্ষা নিয়ে আগে থেকেই মানসিক চাপ ছিল। তার ওপর টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ভিজে অবস্থায় কেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষা দেওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কা ছিল। তবে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী বলেন, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সেসব প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য বলেছি। এছাড়া, যেসব শিক্ষার্থী দেরিতে এসেছে, তারাও যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নগরীতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মাঠে কাজ করছে। খাল, নালা ও ড্রেনের পানি দ্রুত অপসারণে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টিম মোতায়েন রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

Translate