শুক্রবার ১২ই জুন, ২০২৬

১৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

তারা আরও বলেছে, দক্ষিণ ইরানে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর বিপরীতে পুরো অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা আঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার এই নতুন ধাপটি শুরু হয় ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চালানো ধারাবাহিক নিখুঁত হামলার পর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলাকে ইরানের অযৌক্তিক এবং অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া বা জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।

হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত মেহর নিউজ এজেন্সি দেশটির বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাবের কাছে নতুন করে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর দেয়।

এই বোমাবর্ষণের ঘটনাগুলো মূলত পুরো দিনজুড়ে চলা একটি টানা আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতারই অংশ। এর আগে গত বুধবার মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, ফার্স শহরের উপকণ্ঠে হওয়া শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে ঘটেছিল। এ ছাড়া পশ্চিম তেহরানের আকাশে বিমান বিধ্বংসী কামানের গর্জন শোনা গেছে এবং দূরবর্তী কিশ দ্বীপের কাছ থেকেও পৃথক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে এসেছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Translate