বৃহস্পতিবার ১১ই জুন, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

২১ বছর আগে কার্ডিফে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে তারা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে ওয়ানডে সিরিজ। ১৯২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫ ওভারেই তা পার করেছে বাংলাদেশ।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুর ওভারে তানজিদ হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তার পর অবশ্য সৌম্য সরকার (৪২) ও নাজমুল হোসেন শান্তই (৪২) জয়ের ভিত গড়েছেন। দুজনে ফিফটি করতে ব্যর্থ হলেও ৮৬ রানের জুটিতে দলকে শত রানের কাছে পৌঁছে দেন। তাদের জুটি ভাঙার পর ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫)। তখন কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয় ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩৫ ওভারে জয় নিশ্চিত করেন। ৫৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয় (৪০) আর মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট নেন জেভিয়ের বার্টলেট, রাইলি মেরিডিথ, অ্যাডাম জাম্পা, ম্যাট রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিন।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশের আগুনে বোলিংয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের আঘাতে শূন্যরানে হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। ৮১ রানের মধ্যে হারিয়ে বসেছিল ষষ্ঠ উইকেটও। তখন আরও কমে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তার পর অবশ্য অজিদের সেখান থেকে টেনে তোলার কঠিন কাজটি করেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। দুজনে হাফসেঞ্চুরি করে ১০৩ রান যোগ করেছেন। তাদের এই জুটিতে ভর করেই ৮উইকেটে বৃষ্টি নামার আগ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।

তার পর বৃষ্টি আইনে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ হয় ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন। দুটি নেন তানভীর ইসলাম।

মিরাজ-হৃদয়ের জুটিতে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ

সৌম্য-শান্তর আউটের পর কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন দাস। ২১ রানে গ্রিনের বলে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। তার পর মোসাদ্দেক হোসেনও বিদায় নেন ১৫ রানে। ১৪৪ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়ের জুটিতে জয়ের পথে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। ৩৩ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৬৭ রান।

ধাক্কা সামলে সাজঘরে সৌম্য-শান্ত

বৃষ্টি আইনে ১৯২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামার পর শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে শূন্য রানে জেভিয়ার বার্টেলেটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। তার পর অবশ্য দলকে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৬ রানের জুটি গড়েন তারা। সম্ভাবনাময় জুটিটি ভাঙে ১৫.৫ ওভারে সৌম্য সরকার ৪২ রানে রেনশর বলে রিভার্স সুইপ শট খেলতে গেলে। ১৮.১ ওভারে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করতে ব্যর্থ হন শান্তও। তাকে ৪২ রানে গ্লাভসবন্দি করান রাইলি মেরেডিথ। দু’জনে দ্রুত ফেরায় ৯৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ১৯ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৬ রান।

বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৯২ রান

মিরপুরে বৃষ্টি থেমেছে। শুরু হচ্ছে খেলা। বিকাল সোয়া পাঁচটায় বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামবে। বৃষ্টি নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয়েছিল ৮ উইকেটে ১৮৪ রানে। ফলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৯২। খেলা হবে ৪১ ওভার।

 

বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা

৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দলকে একটা বলার মতো জায়গায় নেন জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪০.২ ওভারে এই জুটি ভেঙে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। ফিফটি করা বার্টলেটকে ৫৫ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। তার ৮৫ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। অবশ্য বার্টলেটকে ফেরানোর পরের বলে অ্যাডাম জাম্পাকেও বোল্ড করেন তাসকিন। তাতে স্কোর ৬ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে ৮ উইকেট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার। তার পর ৪২ ওভার শেষ হতেই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা।

দেড়শ ছাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার

৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে খেলছেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। তাদের জুটিতেই দেড়শ ছাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৩৪ ওভার শেষে অজিদের স্কোর ৬ উইকেটে ১৫৭ রান।

৬ উইকেট হারিয়ে আরও বিপদে অস্ট্রেলিয়া

চতুর্থ উইকেট পতনের পর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন ও জশ ইংলিস। ৪৩ রান যোগ করেন তারা। কিন্তু তাদের জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি তানভীর ইসলাম। দলের ৬৮ রানে ইংলিসকে (৩৪) তানজিদ হাসানের ক্যাচ বানান তিনি। তাতে বিপদ আরও বাড়ে অস্ট্রেলিয়ার। তার পর তো আরেক সেট ব্যাটার গ্রিনকেও (২৫) ফিরতি ক্যাচে ফিরিয়ে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান তানভীর। ২৩ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯৬ রান।

এই প্রথম শূন্য রানে ৩ উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া!

টস জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে পেস আক্রমণে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করে ছেড়েছে বাংলাদেশ। দুই ওভারের মধ্যেই বিনা রানে তুলে নিয়েছে ৩টি উইকেট! প্রথম ওভারে ম্যাট শর্টকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তাতে একটা লজ্জার রেকর্ডও সঙ্গী হয়েছে অজিদের। এই প্রথম কোনও রান করেই শুরুর তিন উইকেট হারিয়েছে। সার্বিকভাবে চতুর্থ দল হিসেবে ওয়ানডেতে তারা এমন অভিজ্ঞতার শিকার।

তিন উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি ও জশ ইংলিস। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হতে দেননি মোস্তাফিজ। ৭.৩ ওভারে ক্যারিকে (১৩) শান্তর ক্যাচ বানিয়ে তুলে নেন নিজের তৃতীয় উইকেট। অস্ট্রেলিয়া ২৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়েছে। ৮ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৫ রান।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। এদিনও টসভাগ্য সহায় হয়নি স্বাগতিকদের। টসে হেরে আগে বোলিংয়ে নেমেছে তারা। বৃহস্পতিবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস।

এই ম্যাচে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি টাইগারদের সামনে। মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবার ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

২১ বছর আগে কার্ডিফের সর্বশেষ জয়ের পর এবার প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এটি দুই দলের পঞ্চম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। এটি জিতলে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়বে তারা।

প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার। পেস আক্রমণে রাখা হয়েছে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে। স্পিন বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন।

অন্যদিকে একাদশে অতিরিক্ত পেসার যোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে খেলতে নামছেন রাইলি মেরেডিথ। তিনি পেসার লিয়াম স্কটের পরিবর্তে এসেছেন।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট শর্ট, কুপার কনোলি, জশ ইংলিস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ম্যাট রেনশ, অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা, রাইলি মেরেডিথ।

Translate