লুক্সেমবুর্গ শহরের কেন্দ্রে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে ভিক্ষুকের সংখ্যা আগের চেয়ে কমলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বরং কিছু ভিক্ষুক এখন চুরি করার পরিকল্পনা করছেন। শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের উদ্যোগ সফল মনে করছে।
লুক্সেমবুর্গ শহরের কেন্দ্রে গ্রঁন্দ ব়্যুই এক জনপ্রিয় শপিং কেন্দ্র। দামি সব দোকান, অনেক ভিড়। ডেভিড এখানে প্রায়ই আসেন। ৪১ বছর বয়সী এই ব্যক্তি গৃহহীন এবং ভিক্ষুক। তিনি বলেন, অনেকে এখানে ট্রাম থেকে বাসে ওঠেন। এটা সবচেয়ে ভালো স্থান।
চেক প্রজাতন্ত্রের ডেভিড অনেক বছর আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে কাজ করে একপর্যায়ে লুক্সেমবুর্গে চলে আসেন। এই স্থানে তিনি আগে নিয়মিত ভিক্ষা করতেন। কিন্তু গত বছর ভিক্ষাবৃত্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শহর কর্তৃপক্ষ, ফলে পুলিশের আনাগোনো বেড়েছে বলে জানান ডেভিড।
তিনি বলেন, আমি এখানে ভিক্ষা করতাম। এখন দশ মিনিটের মধ্যে তারা (পুলিশ) হাজির হয়ে বাধা দেয়। জটিলতা করলে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। না হলে সব গুছিয়ে নিয়ে অন্যত্র যেতে বলে। সকাল সাতটা থেকে রাত দশটা অবধি শহরের কেন্দ্র, কয়েকটি সড়ক, চত্বর ও পার্কে ভিক্ষা করা নিষেধ। কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করলে ২৫০ ইউরো জরিমানা।
ডেভিড মনে করেন, দাম্ভিক আমলারা ভিক্ষুকদেরকে শহর ছাড়া করতে এই পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা তাদের একাউন্টে টাকা পাঠায়। তাদের গাড়ি, বাড়ি আছে। ফলে জীবন নিয়ে তেমন ভাবতে হয় না। অন্যদিকে আমরা রাস্তায় কোনোমতে টিকে আছি।
ভিক্ষুকদের এখনও রাস্তায় দেখা যায়, তবে সংখ্যায় কম। এই পথচারী বলেন, দুই এক বছর আগের তুলনায় কম ভিক্ষুক দেখছি। আরেকজনের মন্তব্য, সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তি কমেছে, তবে ভিক্ষুক সবসময় থাকবে।
মেয়র লেডি প্যলফার মনে করেন, নিষেধাজ্ঞায় কাজ হয়েছে। অতীতে ভিক্ষুকদের চক্র শহরকে অনিরাপদ করে তুলেছিল। এখন সেই অবস্থা নেই।
তিনি বলেন, প্রায়ই দেখা যায়, আগ্রাসী ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িতরা বেশ তথ্যসমৃদ্ধ। ফলে লুক্সেমবুর্গ শহরে নতুন আইন চালুর পর রাতারাতি তারা হারিয়ে যায়। সাহায্যপ্রার্থী অনেক মানুষ শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ভয়েস অব স্ট্রিট নামের এক দাতব্য সংস্থায় জড়ো হন। এখানে ৫০ পয়সায় খাবার পাওয়া যায়, রয়েছে গোসলের ব্যবস্থা ও পোশাক। কর রাজস্ব থেকে এই প্রকল্পের অর্থায়ন করা হয়।
ব্যবস্থাপক আলেক্সান্ড্রা অক্সেলাই আমাদের জানান যে, মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, দিনে এখন সাড়ে চারশো জন। তার মতে নিষেধাজ্ঞার কারণে শহরের কেন্দ্র থেকে সমস্যা অন্যত্র সরে যাচ্ছে।
অক্সেলাই বলেন, আমরা শহরের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি চাই। আমার এমন কিছু দেখাতে চাই যা বাস্তব নয়, আমরা দারিদ্র্য লুকাতে চাই। কিন্তু এটা আর লুকানো সম্ভব নয়। এটা নতুন লুক্সেমবুর্গ। এখানে আসা সবাই দারিদ্র হলেও গৃহহীন বা ভিক্ষুক নয়।
তাদের অধিকাংশই ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে রাজি নন। তাদের কেউ কেউ ভিক্ষা করতে না পারলে চুরি করতে চান। ডেভিড সিগারেট ও কফির বিনিময়ে দেখা দিয়েছেন। এবং তার জন্য এক কাজের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু একজন ইটালীয় পাচক। তার রান্নাঘরে থালাবাসন পরিষ্কার করা বা অন্য কোনো কাজ পাওয়া যাবে কিনা জানতে চেয়েছি। সেই কাজ না হওয়া অবধি শহরতলিতে ভিক্ষা করতে চান ডেভিড।