যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের একটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক বাজেট হোটেলে এক রাত কাটিয়ে মারাত্মক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ব্রিটিশ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার হান্না স্টিভেনসন (৩১)। হোটেলটিতে ছারপোকার উপদ্রবের কারণে তার সারা শরীরে গুরুতর ও রক্তক্ষরণকারী কামড়ের দাগ সৃষ্টি হয়।
গত ২৬ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে কেমব্রিজে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার ঝামেলা এড়াতে নিউমার্কেট রোডের ওই ট্রাভেলজ হোটেলে একটি কক্ষ ভাড়া নেন হান্না। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, তার পুরো শরীর চুলকাচ্ছে এবং বালিশে রক্তের দাগ রয়েছে। এমনকি তিনি নিজ চোখেই কক্ষের ভেতরে জীবন্ত ছারপোকা দেখতে পান।
ছারপোকার কামড়ে হান্নার হাত, পা, বুক ও মুখে অসংখ্য চুলকানিযুক্ত ও রক্তক্ষরণকারী লাল ফোলা দাগের সৃষ্টি হয়। তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সেই ক্ষতগুলো সম্পূর্ণ ভালো হয়নি।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, এই অবস্থার কারণে তাকে নতুন কাপড় কিনে শরীরের ক্ষত ঢাকতে হয়েছে। এমনকি একটি পারিবারিক বিয়েতেও তাকে এই অবস্থাতেই অংশ নিতে হয়। একটানা চুলকানির কারণে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং একপর্যায়ে তার প্যানিক অ্যাটাকও হয়। নিজের চেহারা ও হাতের এই দশার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বেশ কিছু সামাজিক অনুষ্ঠান বর্জন করতে বাধ্য হন।
ঘটনার পরপরই হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালেও শুরুতে কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন হান্না। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো বিষয়টি এবং শরীরের ক্ষতবিক্ষত ছবি প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
পোস্টটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে হোটেল কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত ট্রাভেলজ কর্তৃপক্ষ হান্নাকে প্রায় ২,৭০০ ডলার (২,০০০ ব্রিটিশ পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ দেয়।
এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে হান্না স্টিভেনসন জানান, তিনি তার সবচেয়ে খারাপ শত্রুর ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়া কামনা করেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলো তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কীটপতঙ্গ দমন কার্যক্রম আরও জোরদার করবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ভ্রমণকারীকে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে না হয়।
অন্যদিকে, ট্রাভেলজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রাহকদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার এবং এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো সিলগালা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট