আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর মামলার বিচার বাতিল করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার এই রায় দেন বিচারক ম্যাক্সিমিলিয়ানো সাভারিনো।
ম্যারাডোনার চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে উপস্থিত হন ৪০ জনেরও বেশি সাক্ষী। তাদের মধ্যে ছিলেন ম্যারাডোনার মেয়েরা, প্রাক্তন সঙ্গিনীসহ ঘনিষ্ঠজনেরা।
কিন্তু বিচারক জুলিয়েটা ম্যাকিনটাচের বিরুদ্ধে এক টিভি মিনিসিরিজে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার কারণে মামলার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিচারক ম্যাকিনটাচ পরে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। বিচারক সাভারিনো বলেন, ‘ম্যাকিনটাচের আচরণ বিচারকাজে ক্ষতি করেছে।’
ম্যারাডোনার মেয়ে জানা ম্যারাডোনা আদালতের বাইরে বলেন, ‘আমি শান্ত নই। আমি রেগে আছি। আমি ওদের ঘৃণা করি!’ ম্যারাডোনার প্রাক্তন সঙ্গিনী ভেরোনিকা ওহেদা বলেন, ‘এটা একেবারেই লজ্জাজনক।’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে যদি হাজারবারও সাক্ষ্য দিতে হয়, আমি দেব।’
ম্যারাডোনা মারা যান ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে। বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তখন তিনি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ঘরে বিশ্রামে ছিলেন। তার মৃত্যু হয় হার্ট ফেল এবং ফুসফুসে পানি জমে।
প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তাকে ‘একাকী ও কষ্টদায়ক’ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। তার বাড়িতে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ‘চরম অবহেলা’ বলা হয়েছে।
ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ানিনা বলেন, ‘আমার বাবাকে অন্ধকার, জঘন্য আর একাকী জায়গায় রাখা হয়েছিল। যারা তাকে দেখভাল করছিল, তারা শুধু টাকা চেয়েছিল, যত্ন করতে চায়নি।’
আদালতে একটি টিভি সিরিজ ‘ডিভাইন জাস্টিস’-এর ট্রেলার দেখানো হয়। সেখানে দেখা যায়, বিচারক ম্যাকিনটাচ আদালতের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। এই ফুটেজে অনুমতি ছাড়া আদালতের ভেতরে চিত্রধারণের প্রমাণ মেলে। তার বিরুদ্ধে বিচারক হিসেবে নিরপেক্ষতা ভঙ্গ, প্রভাব খাটানো এবং ঘুষ নেওয়ার সম্ভাব্য অভিযোগ উঠেছে।
বিচার বাতিলের পর নতুন বিচারক প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনো নতুন মামলার তারিখ নির্ধারণ হয়নি। ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যমূলক হত্যার সম্ভাবনা জেনেও অবহেলা’ ধারা অনুযায়ী ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত জেলের শাস্তি হতে পারে।