শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬

বাজির বাজারে জমজমাট ব্যবসা, লাভবান ট্রাম্পপুত্রের প্রতিষ্ঠান

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ইরানে সেনা পাঠাবেন? তিনি কি হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তন করবেন? নাকি আবারও আল্লাহকে প্রশংসা করে কিছু লিখবেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কারও জানা নেই। তবে এই অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করে অনলাইন বাজির বাজারগুলো প্রচুর মুনাফা অর্জন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিনিয়োগ থাকা প্রতিষ্ঠান পলিমারকেট এবং তার পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান কালশি।

বাজির বাজারগুলোর জন্য ট্রাম্পের এই অনিশ্চয়তা আশীর্বাদস্বরূপ। ভার্জিনিয়া টেকের অর্থনীতিবিদ কোয়োক পিং সাং পলিমারকেট নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পই সব কিছু। তিনিই বাজার তৈরি করেন। তিনি এতটাই অনিশ্চিত যে মানুষ বাজি ধরতেই থাকে।’

ক্রিপ্টো অ্যানালাইসিস প্রতিষ্ঠান ডিউন-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ৪১ কোটি ৩০ লাখ বাজি ধরা হয়েছে, যেখানে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ঝুঁকি হিসেবে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প যখন ঘোষণা করেছিলেন যে ‘আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’, তখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাজির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।

এই ব্যবসায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তার মুখপাত্র অ্যান্ড্রু সুরাবিয়ান এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডন তার বিনিয়োগকৃত বা পরামর্শদাতা কোনও কোম্পানির সঙ্গে ফেডারেল সরকারের কোনও সংযোগ রাখেন না এবং বাজির বাজার সংক্রান্ত প্রশাসনের নীতিতে তার কোনও প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা নেই।’ এমনকি তিনি এ নিয়ে করা প্রশ্নকে ‘তথ্যহীন ডেমোক্র্যাটিক প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেন।

তবে ব্যবসা বাড়ছে হু হু করে। পিচবুক-এর গবেষণা অনুযায়ী, পলিমারকেটের বর্তমান বাজারমূল্য ৯.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ট্রাম্প জুনিয়র বিনিয়োগ করার পর গত আট মাসে প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। ট্রাম্পের পারিবারিক কোম্পানি ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এখন ‘ট্রুথ প্রেডিক্ট’ নামে নিজস্ব বাজির বাজার খোলার কাজ করছে।

এসব বাজির বাজারে কেবল যুদ্ধ নয়, ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে বাজি ধরা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প কাকে সমর্থন দেবেন, পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে তার অপমানজনক মন্তব্য থামবে কিনা, কিংবা গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন কিনা; সবই এখন বাজির বিষয়।

ডেমোক্র্যাটরা এই পরিস্থিতিকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন এবং এর বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি জানাচ্ছেন। বাজির বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পলিমারকেটের তথ্যমতে, বছরের শুরুতে ট্রাম্পের অভিশংসনের সম্ভাবনা ১৩ শতাংশ ধরা হলেও তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর মঙ্গলবার তা বেড়ে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এপি

Translate