নগরীর একটি মার্কেটের একাংশের নিচে চাপা পড়া ড্রেন উদ্ধার করে পানি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথার কাজিরহাট এলাকার মহিউদ্দীন মার্কেট যা মসজিদ মার্কেট নামেও পরিচিত। প্রায় ২০ বছরের পুরোনো মার্কেটটির একটি অংশ নির্মাণ করা হয়েছিল ড্রেনের উপর। ড্রেনটি সরাসরি যুক্ত নোয়া খালের সাথে। ড্রেনের প্রায় ২০ ফুট জায়গার উপর মার্কেটের সাতটি দোকান রয়েছে। যার কারণে মার্কেটটি নির্মাণের পর থেকে ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে হয় কাজিরহাটের বাসিন্দাদের। যা বর্ষা মৌসুমে তীব্র আকার ধারণ করে। এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে ড্রেনটি উদ্ধার করে পানি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ড্রেনটি উদ্ধার করা গেলে এলাকাবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাজিরহাট এলাকার চর রাঙ্গামাটিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে চর রাঙ্গামাটিয়া সড়কটি পুরো পানিতে ডুবে যায়। ড্রেন ও সড়ক পানিতে ডুবে একাকার হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা এলে প্রায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ড্রেনটি দখলমুক্ত করা হলে আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। মার্কেটটির নিচে বহু পুরোনো একটি ইউ আকৃতির ড্রেন রয়েছে। এই ড্রেনের মাধ্যমে পুরো এলাকার পানি যেত নোয়া খালে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নোয়া খাল থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করা হলেও মার্কেটের কারণে ইউ ড্রেনটি নির্মাণ করতে পারেনি সংস্থাটি। প্রায় ২০ ফুটের এই ড্রেনের উপরেই মার্কেটটির একাংশ নির্মিত হয়েছে।
যেখানের নিচতলায় সাতটি এবং উপরে চারটি দোকান রয়েছে। মার্কেটটি নির্মাণের পর থেকে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। মার্কেটটির নিচে এখনো ড্রেনটি রয়েছে। তবে স্থাপনার কারণে ড্রেনটির পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ।
সম্প্রতি ড্রেনটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। আগামী ১৮ মে’র মধ্যে ড্রেনের উপর নির্মিত সকল দোকান সরানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে সংস্থাটি। এ সময়ের মধ্যে ড্রেনের উপর অবৈধ দোকান অপসারণ করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কাপ্তাই রাস্তার মাথার কাজিরহাটের ইউ ড্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা নোয়া খালের সাথে সংযুক্ত। এ ড্রেনটি উদ্ধার করা না হলে ওই পানি খালে যেতে পারবে না। ফলে এলাকাটি জলাবদ্ধতা মুক্ত করা যাবে না। আমরা দোকানদারদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সরে যেতে বলেছি। তারাও জানিয়েছে এসময়ের মধ্যে তারা সরে যাবে।’