শুক্রবার ২২শে মে, ২০২৬

কুতুবদিয়া অ্যাপ্রোচ রোডের বরাদ্দ আত্মসাৎ

লুটপাট আর অনিয়মে চলছে চট্টগ্রাম বন বিভাগ।
কখনো পাহাড় বেচা আবার কখনো বন বেচার অভিযোগ ওঠলেও এবার ওঠেছে আরো বেশী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

এবং চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়- কুতুবদিয়া উপকূলীয় রেঞ্জের ২০২১-২০২২ আর্থিক সনের আলী আকবর ডেইল বিটের একটি স্টাফকোয়ার্টার ও ২০২২-২০২৩ সনের মাটি ভরাটসহ একই রেঞ্জের আওতাধীন একটি এপ্রোচ রোড সংস্কার বাবদ প্রাপ্ত অর্থ কাজ না করে খেয়ে ফেলা হয়।

ওই সময় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা ছিলেন বর্তমান চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ধুমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা মো-শামীম রেজা।কুতুবদিয়ার বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আব্দুর রাজ্জাক চলতি বছরের ১৫ই জানুয়ারি সাবেক রেঞ্জার শামীম রেজার দীর্ঘ ২বছর ৪মাসের ফিরিস্তি তোলে ধরে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের ডিএফও এম এ হাসানকে একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয় ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত এপ্রোচ সড়ক মেরামতের কাজ অসমাপ্ত।

এবং রেঞ্জ কার্যালয় থেকে বার বার সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বর্তমানে ধুমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা মো: শামীম রেজাকে কল করা হলেও তিনি শুধু আশ্বস্তের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি।

এদিকে উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাবেক ডিএফও বেলায়েত ও সাবেক ডিএফও আব্দুর রহমানকে ম্যানেজ করেই মূলত স্টাফ ব্যারাক ও এপ্রোচ রোডের কাজ সংস্কার না করেই পুরো অর্থ উত্তোলন করে ফেলেন সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ধুমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা শামীম রেজা।

এদিকে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বর্তমান ডিএফও এম এ হাসানের আগে অন্তত ২জন ডিএফও চলে গিয়ে পরবর্তী ডিএফও এম এ হাসানের উপর বর্তায় অনিয়ম করার কারণে শামীম রেজার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া।
কিন্তু বর্তমান ডিএফও ব্যবস্থার বদৌলে ধুমঘাট স্টেশনে কর্মরত শামীম রেজাকে কল করে এবং অফিসে গোপন মিটিং করেন এবং কাজ শতভাগ করার বিপরীতে আংশিক কাজ করিয়ে পুরো প্রকল্পের বৈধতা দেন আর্থিক টাকা পয়সার বিনিময়ে।

 

এদিকে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের ডিএফও এম এ হাসান প্রথমে শামীম রেজা স্টেশন ত্যাগ করার ৪বছর পরে কাজ আদায় করার কৃতিত্ব নেয়ার বক্তব্য দিলেও পরে সরেজমিনে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি দেখে তিন ভাগের এক ভাগও কাজ করা হয়নি জানালে তিনি সুর বদল করে কাজ অসমাপ্ত থেকে গেছে স্বীকার করেন,এবং বলেন দুইজন ডিএফও কলা চুষলেও আমি অল্প হলেও কাজ আদায় করেছি।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এম এ হাসানের পিরিয়ডের কোন বরাদ্দ নয়, তবে দীর্ঘ ৪বছর আগের অনিয়মের বিষয়ে বিধি মতো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সামান্য কাজ করিয়ে শামীম রেজার বিরুদ্ধে চলমান দূর্নীতির অভিযোগকে সুকৌশলে খারিজ করে দেন বর্তমান এই ডিএফও এম এ হাসান।

এদিকে বাঁশখালী ও কুতুবদিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন তিন ভাগের সামান্য কাজ সম্পাদন করেছেন তাও দীর্ঘ ৪বছর পর।

তবুও সিংহভাগ কাজ থেকে গেছে ওটার জন্য বার বার তাগাদা দেয়া হলেও ফোনে আশা দেয়া হয় কিন্তু বাস্তবায়ন করেননা শামীম রেজা।

অনুসন্ধানে দেখা যায় উপরোক্ত অনিয়মের কথা তোলে আব্দুর রাজ্জাক গত ১৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ কার্যালয়ে চিঠি ইস্যু করেন।
উক্ত চিঠির ইস্যুর বিষয়টি ডিএফও এম এ হাসান নিশ্চিতও করেছেন।

কথা প্রসঙ্গে ডিএফও এম হাসান বর্তমান ধুমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা মো: শামীম রেজাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অল্প কাজ করিয়ে নেয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন এবং আরো বহু কাজ অসমাপ্ত থেকে গেছে বলেও প্রতিবেদককে বলেন।

এদিকে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা রনি আলীর বিষয়েও চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি দৈনিক দূর্নীতির অভিযোগ হাজির করলেও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা রনি আলী।

তিনি বলেন বেঁড়িবাধের বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে তা মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা ওটা উপকূলীয় বন বিভাগের নয়।

তবে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা রনি আলীর দূর্নীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন তথ্য প্রতিবেদকের হাতে এখনো আসেনি তবে অনুসন্ধান চলমান।অপরদিকে সূত্রঃ-ডিএফও দপ্তরের পত্র নং- ২২.০১.০০০০.৭৫১.এবং 05.28.24,১৪৯৩ তারিখঃ ১৬/০৫/২০২৪ ইং পরবর্তীতে ডিএফও দপ্তরের পত্র নং-২২.০১.০০০০.৭৫১.০৫.২৮,২৪,৩১৯৫ তারিখঃ০৯/১০/২০২৪ ইং ও নং-২২.০১.০০০০.৭৫১.০৫.২৮.২৫.১৭৬৯ তারিখঃ১৫/০৫/২০১৫ ইং ও ২২.০১.২০২৬ইং অন্তত ৭টি পত্র বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দূর্নীতির চিত্র প্রতীয়মান হলে উক্ত পত্রের ভয় দেখিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ধুমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা মো: শামীম রেজা থেকে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সকল অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেন ডিএফও এম এ হাসান।

Translate