মস্কো থিয়েটার জিম্মি সংকট: ২০০২ সালের রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি।

২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দুব্রোভকা থিয়েটারে অবসান ঘটে প্রায় ৫৮ ঘণ্টার এক ভয়াবহ জিম্মি সংকটের। তিন দিন ধরে চলা এই সংকটে শত শত দর্শক ও থিয়েটারকর্মী জিম্মি হয়ে পড়েন। রুশ বিশেষ বাহিনীর অভিযানে জিম্মিকারীদের অধিকাংশ নিহত হলেও প্রাণ হারান বহু নিরীহ মানুষ। উদ্ধার অভিযানে রাসায়নিক গ্যাসের ব্যবহার এবং পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের কারণে ঘটনাটি আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে এক মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

২০০২ সালের ২৩ অক্টোবর মস্কোর দুব্রোভকা থিয়েটারে ‘নর্ড-অস্ট’ নামের একটি জনপ্রিয় মিউজিক্যাল পরিবেশিত হচ্ছিল। দর্শকে পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে হঠাৎ সশস্ত্র চেচেন বিদ্রোহীরা প্রবেশ করে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষকে জিম্মি করে। হামলাকারীদের দাবি ছিল, চেচনিয়ায় রুশ সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং সেখান থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

পরবর্তী প্রায় ৫৮ ঘণ্টা ধরে জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য আলোচনা চলে। কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। থিয়েটারের ভেতরে আটকে থাকা মানুষগুলোর জীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বাইরে স্বজনেরা অপেক্ষা করছিলেন প্রিয়জনদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায়।

২৬ অক্টোবর ভোরে রুশ বিশেষ বাহিনী থিয়েটারে অভিযান চালায়। অভিযানের আগে ভবনের ভেতরে অজ্ঞান করে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থযুক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ভবনে প্রবেশ করে জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। অধিকাংশ জিম্মিকারী নিহত হয়।

কিন্তু উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়। গ্যাসের প্রভাবে বহু জিম্মি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বহুল উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৩০ জন জিম্মি প্রাণ হারান। সংকটের অবসান ঘটলেও অসংখ্য পরিবার হারায় তাদের প্রিয়জনকে।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজে চিকিৎসা সহায়তার সমন্বয়, ব্যবহৃত গ্যাস সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ এবং প্রাণহানির দায় নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। নিহতদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়েও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসেন।

Translate