পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন দায়ের করেছেন তিনি।অভিযোগ, ভোট গণনার সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে সেই অভিযোগের বিচারিক তদন্ত চান তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি আদালতে নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন করেছিলেন। সেই মামলায় গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল নেত্রী পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।
এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত বিধি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। আদালতের কাছে তিনি সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন।
মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, কোন নিয়মের ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে ওই দাবির বিরোধিতা করেন। তার মতে, অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে মঙ্গলবারের শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহ নতুন মাত্রা পেয়েছে।আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের পরবর্তী দিকনির্দেশনা। আগামী দিনে এই দুই মামলার অগ্রগতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিধানসভার ভেতরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।