ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ। তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তেই এমনটা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে। তবে সাকিব আল হাসান পুরো ঘটনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারেরই দায় দেখছেন।
মুম্বাইয়ে ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাকিব বলেছেন, ‘আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তখনকার সরকারের বড় ভুল ছিল।’
সাকিব মনে করেন, এমন একটা ক্রিকেট পাগল দেশের বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট মিস করায় সেটা সেটা ভক্ত এবং খেলোয়াড়দের ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে, ‘আমার মনে হয় এটা বড় ক্ষতি। বাংলাদেশের ক্রিকেট বিবেচনায় এটা বড় মিস। কারণ দেশ হিসেবে আমরা খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় থাকি।’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘আমরা ক্রিকেট পাগল জাতি। আর তেমনই একটি দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া আমাদের জন্য বড় মিস।’
বর্তমান নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব। তিনি বলেছেন বর্তমান দলটি দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে, ‘এই মুহূর্তে দলটি দুর্দান্ত খেলছে। তারা সবেমাত্র নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিও জিতেছে। তাই এই দলটি ভালো। আগে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নির্ভর করতো। এখন তারা দলগতভাবে পারফর্ম করছে। আমার মনে হয় এগিয়ে যাওয়ার এটাই সেরা পন্থা।’
মূলত নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারত খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। যে কারণে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। তাতে
১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনও আসরে অংশ নেওয়া হয়নি বাংলাদেশের।
ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই অনির্দিষ্ট কারণে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিসিবি চেয়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক, কিন্তু আইসিসি তাতে সম্মত হয়নি।
তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একাধিকবার বলেন যে, বিসিবি সরকারের নির্দেশেই কাজ করেছে। তবে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার পর তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি করেন, বিসিবি স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। সাকিব অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন, দুই বোর্ডের সম্পর্ক উন্নত হবে, বিশেষ করে যদি এ বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসে বা বাংলাদেশ ভারত সফরে যায়, ‘আমার মনে হয় পরিস্থিতি ভালো হবে। বিসিসিআই ও বিসিবির সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করা উচিত। আমি শুনেছি আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের দিকে একটি সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেটি হলে বরফ গলবে এবং পরিস্থিতি ভালো হবে।’
সাকিবের দীর্ঘদিনের সতীর্থ তামিম ইকবাল নতুন বোর্ড সভাপতি হওয়া নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে তাদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছিল, যখন সাকিবের নেতৃত্বাধীন দলে তামিমকে বাদ দেওয়া হয়।
তবে সাকিব বিসিবি প্রধান হিসেবে তামিমকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি সভাপতি হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করবেন। আশা করি, বাংলাদেশের ক্রিকেট তার থেকে উপকৃত হবে।’