রবিবার ১৯শে জুলাই, ২০২৬

‘বিতর্কিত সিদ্ধান্তের’ টেস্টে উইন্ডিজকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

বার্বাডোজে অস্ট্রেলিয়া বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল মোটে ১৮০ রান তুলতেই। তবে শেষমেশ বিজয়ীর হাসিটা তারাই হেসেছে। উইন্ডিজকে হারিয়েছে ১৫৯ রানে। এই ম্যাচের ফল ছাপিয়ে অবশ্য আলোচনায় চলে এসেছে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত, যার বেশিরভাগই গেছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

দুই ইনিংসে ফিফটি করে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ট্র্যাভিস হেড। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও উঠে গেছে তার হাতেই। তবে প্রথম ইনিংসে তিনি আউট হতে পারতেন ৫৩ রানে। প্রথম ইনিংসে তার ক্যাচ দিয়েই বিতর্ক শুরু হয়। ইনিংসের ৪৫তম ওভারে আল্ট্রা-এজে স্পষ্ট এজ থাকলেও বল হাতে পৌঁছেছে কি না তা ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকায়’ নিশ্চিত হয়নি। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে একই রকম একটি পরিস্থিতি থেকে আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক আউটের সিদ্ধান্ত দেন রস্টন চেজের বিরুদ্ধে। সে ইনিংসে শেই হোপের আউট নিয়েও বিতর্ক আছে। অ্যালেক্স ক্যারি তার ক্যাচটা যখন নিলেন, বলটা মাটি ছুঁয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন নাকচ হলে আবারও থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে আবেদনের রিপ্লেতে দেখা যাচ্ছিল বলটা আগে প্যাডে লাগলেও লাগতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে হোল্ডস্টক সিদ্ধান্ত দেন গ্রিনের পক্ষে।

এমন সব সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যেমন সাহায্য করেনি, দলটির ব্যাটাররা নিজেরাও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ১৯০ রানে অলআউট হয় দলটা। দ্বিতীয় ইনিংসে হেডের ফিফটিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ৩১০ রানের পাহাড় গড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৩০১ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলটা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট খোয়াতে শুরু করে। ৮৬ রানেই দলটা ৮ উইকেট খুইয়ে বসে। তবে এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন জাস্টিন গ্রিভস আর শামার জোসেফ। ৪টি করে চার আর ছক্কায় ২২ বলে ৪৪ রান করেন জোসেফ, ওপাশে গ্রিভস খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস।

লোয়ার অর্ডার থেকে এমন ইনিংস হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে বড় কাজে দেয়। কিন্তু টপ আর মিডল অর্ডার যেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ, তেমন ম্যাচে তা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পারে। বার্বাডোজেও হলো তাই। জোসেফ যেই না বিদায় হলেন, এরপরই অলআউট হয়ে বসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৪১ রানে শেষ হয়ে গিয়ে ম্যাচটা হারল ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজটায় এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

Translate