চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সংঘর্ষের দুই দিন পর বিশেষ নিরাপত্তায় আমদানিপণ্যবাহী জাহাজ ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ ও ‘এইচআর তুরাগ’ জেটিতে ভিড়তে সক্ষম হয়েছে। গতকাল রবিবার (৩ মে) দুপুর ১২টার পর জাহাজ দুটিকে বন্দর চ্যানেলে আনা হয় এবং পৃথক দুটি জেটিতে বার্থিং করানো হয়।
জাহাজের বার্থিং ও কার্গো তথ্য
বন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় এইচআর লাইনের জাহাজ ‘এইচ আর তুরাগ’ দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে এনসিটি-৪ বার্থে নোঙর করে। জাহাজটিতে ৫০৩টি বক্সে মোট ৭৪৯ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার রয়েছে। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই জাহাজের ২৭১ বক্স কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন মায়েরস্কের জাহাজ ‘মভি মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে জিসিবি-১৩ বার্থে ভেড়ানো হয়। এই জাহাজটিতে ১ হাজার ১৩৩টি বক্সে ১ হাজার ৮৭৮ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার রয়েছে। জাহাজ দুটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৬২৭ টিইইউএস কনটেইনার রয়েছে। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই জাহাজের ৫৭ বক্স কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো হয়েছে। জাহাজ দুটি নিয়ে গত দুদিন ধরে আমদানিকারকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছিল।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রাথমিক জটিলতা
গত শুক্রবার (১ মে) সিঙ্গাপুর ও মালেশিয়া থেকে পণ্য নিয়ে আসার পথে বহির্নোঙরে জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় জাহাজের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পানির নিচের অংশেও ফাটলের আশঙ্কা দেখা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই বন্দর পাইলটরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা দেখে জাহাজ দুটিকে জেটিতে না এনে ফিরে আসেন, যার ফলে পণ্য খালাস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযান
গতকাল রবিবার জাহাজ দুটিকে জেটিতে আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মোহনা থেকে এনসিটি পর্যন্ত সাধারণ জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজকে তিনটি করে টাগবোট দিয়ে পাহারা দিয়ে আনা হয়। এছাড়া স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছিল অতিরিক্ত টাগবোট। নিরাপত্তার খাতিরে মাত্র ৬ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে এবং প্রতিটি জাহাজে দুইজন করে অভিজ্ঞ পাইলট নিয়োগ করে ধীরগতিতে জেটিতে আনা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি বন্দর ভবনের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ভিটিএমএস) থেকে সরাসরি তদারকি করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ
চট্টগ্রাম বন্দরের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলাম জানান, বিপুল পরিমাণ আমদানিপণ্য আটকে থাকায় অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জাহাজ দুটিকে জেটিতে আনা হয়েছে। তবে জাহাজগুলো বর্তমানে কেবল আমদানিপণ্য খালাস করবে; মেরামত ও সমুদ্রপথে চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো রপ্তানি কনটেইনার লোড করতে পারবে না।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রাথমিক তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হলেও কমিটির সদস্যরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানা গেছে। খালাস শেষে জাহাজ দুটিকে ডকইয়ার্ডে নিয়ে মেরামত করা হবে।