বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে পরস্পর বিরোধী বিজ্ঞপ্তি, ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যে দিয়ে বিশৃঙ্খলার কারণে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্রায় ১টার দিকে কেন্দ্রজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হট্টগোলের মধ্যে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত আর ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই উধাও ব্যালেট পেপার, পরবর্তীতে রাত ৮ টার দিকে বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির প্যাডে সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদের ফলাফল স্থগিত রাখার ঘোষণা এবং অনিবার্য কারণবশত সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এর আগে ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অন্যান্য পদের ফলাফল বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেসব পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় একক প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সভাপতি পদে এডভোকেট মোহাম্মদ নাছেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও সহ-সভাপতি, অর্থ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সদস্যসহ বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর বেলা ১২টার দিকে নির্ধারিত সময়ে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হয়। পরবর্তী দুপুর ১টার সময় আইনজীবীদের একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও আগের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে পুনঃতফসিল দাবী করে ভোট কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন।
এ সময় সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ভোট বর্জন করে হট্টগোল ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে ভোট কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং ভোট কক্ষে অবরুদ্ধ থাকেন।
পরে আইনজীবীদের দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা হট্টগোল, ধস্তাধস্তি ও বাক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার প্রথমে ভোট স্থগিত, নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
এ সময় তাঁরা বের হলে আইনজীবীদের একটি পক্ষ মোবাইলের ফ্লাশ লাইট আলো জ্বালিয়ে পুরো ভোটকক্ষ তল্লাশি করেও একটি ব্যালটও পাননি।
এ সময় এডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, মব সৃষ্টি পরিকল্পিতভাবে আমার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার নামে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। যার কারণে আইনজীবীরা জোরপূর্বক ভোটবর্জন করেছেন। পরে অবৈধ এই নির্বাচন কমিশন উপায় না পেয়ে ভোট বন্ধ রেখে ভোটকক্ষ থেকে চুরি করে ব্যালট পেপার নিয়ে চলে গেছে।
সব আইনজীবীরা এই প্রহসনের ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা পুনঃতফসিল ঘোষণা করে সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে আদালত ভবনের সামনে রাস্তার উপরে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মাঝে ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে পুলিশ এসে দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে রাত ৮ টার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে আইনজীবী সমিতির প্যাডে ফলাফল ঘোষণা দেন।