যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নবায়ন করার সম্ভাবনা ‘খুবই কম’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে কোনও সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, পিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও ভয়ংকর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে ‘প্রচুর বোমা পড়তে শুরু করবে’।
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, পাকিস্তানে আজই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে ট্রাম্প ঠিক কোন চুক্তির কথা বলছেন, তা অস্পষ্ট। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার কোনও দিনক্ষণ মঙ্গলবার পর্যন্ত নির্ধারিত নেই এবং তেহরান এখনও এতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ইসরায়েলের প্ররোচনা নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে প্ররোচিত করার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েল আমাকে কখনও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করেনি। ৭ অক্টোবরের ফলাফল এবং ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না, এই মতাদর্শই আমাকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তিনি ‘ফেক নিউজ’ প্রচারকারীদের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের ফলাফল হবে বিস্ময়কর, আর ইরানের নতুন নেতারা যদি স্মার্ট হয়, তবে দেশটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ হতে পারে!
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বসে ট্রাম্পকে যুদ্ধ নিয়ে যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার বেশিরভাগই বাস্তবে ঘটেনি।
ভ্যান্সের সফর নিয়ে বিভ্রান্তি
ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার পাকিস্তানে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তারা এখন রওনা হয়েছে। আজ রাতেই সেখানে পৌঁছাবে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, জেডি ভ্যান্স এখনও যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন তিনি ইসলামাবাদগামী বিমানে রয়েছেন।