শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬

নাজমুলের সেঞ্চুরি হতাশ মুমিনুল

নাজমুল হোসেন শান্ত পারলেও পারেননি মুমিনুল হক। সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাসে হেসেছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। সেঞ্চুরি না পাওয়ার বেদনায় হতাশ হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল। উচ্ছ্বাস আর বেদনার মিশ্রিত দিনে টাইগার অধিনায়ক ও সাবেক অধিনায়ক একটি রেকর্ড গড়েন। তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ও রানের জুটি গড়েন দুজনে। দুই বাঁ-হাতি ব্যাটার মিরপুরে ১৭০ রান যোগ করে রেকর্ডটি গড়েন। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেট জুটিতে আগের রেকর্ড ১৩০ রান, মোহাম্মদ আশরাফুল ও জাভেদ ওমর বেলিম গুল্লু করেছিলেন ২০০৩ সালে পেশোয়ারে। সব মিলিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ২৪২। ২০২১ সালে পাল্লেকেলেতে নাজমুল-মুমিনুল জুটি রেকর্ডটি করেছিলেন। নাজমুল আরও একটি রেকর্ড গড়েন পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন। ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি ৯টি হলেও অধিনায়ক হিসেবে তিন অঙ্কের জাদুকরী ইনিংস তার পাঁচটি। যা বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তার পেছনে চার সেঞ্চুরি মুশফিকের ও তিন সেঞ্চুরি মুমিনুলের। জুটির রেকর্ড গড়ার দিন টাইগাররা শেষ করে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলে।

ইনিংসের ৫৩তম ওভার। দলের স্কোর ১৯৭। নাজমুলের নামের পাশেও লেখা ৯৭। ক্যারিয়ারের ৪০ টেস্টের নবম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে টাইগার অধিনায়ক। ওভারের প্রথম বল করেন পাকিস্তানের সুইং বোলার মোহাম্মদ আব্বাস। কপিবুক কাভার ড্রাইভ খেলেন নাজমুল। বল কাভার ও মিড অফের ফাঁক গলিয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে সীমানা দড়ি পার হতেই উচ্ছ্বাসে শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন টাইগার অধিনায়ক। নিজের ট্রেডমার্ক জাম্প দিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে সাজঘরের দিকে কাউকে নিবেদন করেন। এরপর উইকেটে ফিরে উপুড় হয়ে চুমু খেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওভারের পরের বলে লাইন মিস করেন। বল আঘাত হানে প্যাডে। লেগ বিফোরের আবেদন। নাকচ করে দেন আম্পায়ার। পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ রিভিউ নেন। রিভিউতে দেখা যায় বল উইকেটে আঘাত হানত। আম্পায়ার আউট দেন। হতাশ নাজমুল সাজঘরের পথে হাঁটেন। অথচ এক বল আগে একই পথে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। হতাশ হলেও টাইগার অধিনায়ক তার ক্যারিয়ারের ৯ নম্বর সেঞ্চুরি করেন। সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের আট ইনিংসে এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। নাজমুল ১০১ রান করেন ১৩০ বলে ১২টি চার ও ২ ছক্কায়। চলতি বছরে বাংলাদেশ এই প্রথম টেস্ট খেলল। প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন নাজমুল। পাকিস্তানের বিপক্ষেও এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি। গত নভেম্বরে মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসে রান করেছিলেন যথাক্রমে ১ ও ৮। সিলেটে খেলেছিলেন ১১৪ বলে ১৪ চারে ১০৮ রানের ইনিংস। গত জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে রান করেন ১৯ ও ৮। গলে ড্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭৯ বলে ১৫ চার ও এক ছক্কায় ১৪৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ১৯৯ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায়।

অধিনায়ক নাজমুল পারলেও পারেননি সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল। দারুণ খেলতে খেলতে নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হন বাঁ-হাতি ব্যাটার। আউট হন স্পিনার নোমান আলির বলে। নাজমুলের মতো তিনিও রিভিউতে আউট হন। ৯১ রান করে লেগ বিফোর হন। ২০০ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০ চারে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছরের শেষ ম্যাচে মুমিনুল আউট হয়েছিলেন ব্যক্তিগত ৮৭ রানে। টানা চার ইনিংসে টাইগার সাবেক অধিনায়ক সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও উচ্ছ্বাস করতে পারেননি। চার ইনিংসে তার স্কোরগুলো যথাক্রমে ৯১, ৮৭, ৬৩ ও ৬২। টাইগার সাবেক অধিনায়ক গত ২০ ইনিংসে সেঞ্চুরির মুখ দেখেননি। ৭৬ টেস্ট ক্যারিয়ারে যে ১৩টি সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল, তার সর্বশেষটি ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুরে, ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ১৯৪ বলে ১৭ চার ও এক ছক্কায়। গতকাল যদি মুমিনুল সেঞ্চুরি করতে পারতেন, তাহলে মুশফিককে টপকে এককভাবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক হতেন। গতকাল সেঞ্চুরি না পেয়ে পুরোপুরি হতাশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই হতাশাই ঝরে পড়ছে তার কণ্ঠে, ‘এতদিন আক্ষেপ হয়নি। আজকে একটু হালকা আক্ষেপ হচ্ছে।’

Translate