রবিবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬

‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসের ভেতরটি দুমড়েমুচড়ে যায়’

কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাসের একজন যাত্রী ওমর ফারুক। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দুর্ঘটনার সময়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি বাসে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকি ও বিকট শব্দে ঘুম ভাঙতেই দেখি ট্রেন বাসটিকে মুখে করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসের ভেতরটি দুমড়েমুচড়ে যায়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারাই।’

ঈদের দিন গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাত জন পুরুষ, দুটি শিশু ও তিন জন নারী রয়েছেন।’

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেন রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। আর মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসটি নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষের পর দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসটিকে টেনেহিঁচড়ে অনেকটা পথ নিয়ে যায় ট্রেনটি।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা অজয় ভৌমিক বলেন, ‘হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় ভোর ৪টার দিকে। ১২ জনকে আমরা নিহত অবস্থায় এখানে পাই। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হতাহতদের বেশির ভাগই মাথায় আঘাত পেয়েছেন। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তাদের।’

এই ঘটনায় রেলওয়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া।

এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।

Translate