বুধবার ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬

এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি

বোয়িং ৭৮৭ ও বোয়িং ৭৩৭ বিমানগুলোর ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের (এফসিএস) লকিং মেকানিজমে কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এয়ারলাইন্সটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবগুলো বোয়িং ৭৮৭ বিমানে সতর্কতামূলকভাবে পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষার পর এতে কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) সোমবার (১৪ জুলাই) এক নির্দেশনায় ২১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট বোয়িং বিমানগুলোর এফসিএস পরীক্ষা করতে বলেছিল। এরপরই এয়ার ইন্ডিয়া এই পদক্ষেপ নেয়।

এয়ার ইন্ডিয়া তার দীর্ঘপাল্লার রুটে বোয়িং ৭৮৭ টুইন-আইল জেট ব্যবহার করে। আর এর স্বল্পমূল্যের ইউনিট এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বোয়িং ৭৩৭ সিঙ্গেল-আইল জেট পরিচালনা করে।

গত মাসে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বোয়িং ৭৮৭ জেটলাইনার বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন এবং মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন নিহত হন। এই দুর্ঘটনার তদন্ত মূলত ফোকাস করেছে বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের দিকে।

এই সুইচগুলো বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলোর সাহায্যে পাইলটরা গ্রাউন্ডে ইঞ্জিন চালু বা বন্ধ করতে পারেন এবং উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিন বিকল হলে ম্যানুয়ালি বন্ধ বা পুনরায় চালু করতে পারেন।

এয়ার ইন্ডিয়ার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের লকিং মেকানিজমে কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এই পরিদর্শনটি ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের একটি নির্দেশনার পর করা হয়, যা সম্প্রতি সব এয়ারলাইনকে বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৩৭ বিমানগুলোর ফুয়েল সুইচ লকিং সিস্টেম পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়।

এর আগে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে ফুয়েল সুইচের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বোয়িং ৭৮৭ বহরের সব বিমানে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের লকিং মেকানিজমের সতর্কতামূলক পরিদর্শন শেষ করেছি এবং কোনও ত্রুটি পাইনি।’

দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এক বছরের মধ্যেই প্রকাশিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

Translate