সাদা ফ্রকে জড়ানো দুই বছরের আয়েশা বাবা সাজ্জাদুন নূরের কোলে ছিল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল, যেন শান্তিতে ঘুমোচ্ছে সে। কিন্তু কাছে যেতেই ভেঙে পড়ে সেই দৃশ্য। মাথায় আঘাত, রক্ত গড়িয়ে পড়ছে বাবার টি-শার্টে। নিথর শরীর জড়িয়ে বাবা ছুটছেন হাসপাতালে, মুখে শুধু আহাজারি—‘আল্লাহু আকবর! ‘আল্লাহু আকবর! ‘আল্লাহু আকবর!
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর পূর্ব প্রান্তে বোয়ালখালী উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় আয়েশাসহ আরও দুজন।
কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সেতুর মুখে একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় যানবাহনগুলো। আহত হন অন্তত পাঁচজন।
রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের বারান্দায় তখন শোকস্তব্ধ পরিবেশ। শিশু আয়েশার বাবা সাজ্জাদুন নূর বিলাপ করছেন—‘ও আমার আয়েশা! তুই কোথায় গেলি রে!’ পাশেই মা জুবাইদা ফেরদৌস, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান কয়েকবার।
স্বজনরা জানান, বোয়ালখালীর মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা সাজ্জাদ পরিবার নিয়ে ঈদ করতে শহরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু উৎসবের আগেই চিরতরে হারালেন তাদের আদরের মেয়েকে।
এ ঘটনায় নিহত আরও একজনের পরিচয় জানা গেছে—মুহাম্মদ তুষার, উত্তর গোমদন্ডী ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে:আসিফ উদ্দিন বাপ্পি, আসমা আহমেদ, আঞ্জু আরা।
তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।