বুধবার ২০শে মে, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে বিপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা

চলমান ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অর্থনীতিতে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং শ্রমের ক্রমবর্ধমান খরচের যাঁতাকলে পড়ে ব্যাপকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, যার ফলে তাদের মুনাফা প্রতিনিয়ত কমছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর জানিয়েছে।

বিগত পাঁচ বছরে তৈরি হওয়া মোট নতুন কর্মসংস্থানের অর্ধেকই এসেছে ২৫০ জনের কম কর্মী নিয়ে পরিচালিত এই ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো থেকে। ফলে এই খাতে যেকোনও ধরনের বিপর্যয় সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন উদ্যোক্তারা বর্তমানে ‘শ্রমিকদের সহজলভ্যতা, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে’ দিন কাটাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। এই এক মাসেই মুনাফা কমেছে ১.৩ শতাংশ। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্যাসের দাম যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে, তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই ব্যবসায়।

আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম দাঁড়ায় ৪.৫৩ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনটি বলছে, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে গ্যাসোলিনের পেছনে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘ভোক্তাদের কেনাকাটার বা ব্যয়ের প্রবণতা শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর বিক্রি দিন দিন মন্থর হয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।’

ক্ষুদ্র ব্যবসায় মন্দার এমন চিত্র থাকলেও মার্কিন নাগরিকেরা রেকর্ড গতিতে নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করছেন। উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবল ঝোঁক মার্কিন অর্থনীতিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতি থেকে কিছুটা আলাদা ও এগিয়ে রেখেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মার্কিনিরা প্রায় রেকর্ড হারে নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন। গত ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার করে নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে, যা করোনা মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি।

Translate