বুধবার ২০শে মে, ২০২৬

প্রাণনাশের হুমকি পেলেন কলকাতার অভিনেতা সোহম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তুমুল হট্টগোলের মাঝে এবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা টলিউড অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী

তবে এই হুমকির পেছনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নেই, বরং জড়িয়ে রয়েছে তাঁর অভিনয় পেশাকেন্দ্রিক একটি পুরনো বিতর্ক। আর এই চরম উত্তেজনার আবহেই সোহম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যাই ঘটুক না কেন, রাজনীতি তিনি কোনোভাবেই ছাড়ছেন না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রায় আট বছর আগে, ২০১৮ সালে। পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তীর একটি বাংলা সিনেমায় অভিনয়ের কথা ছিল সোহমের, যার প্রযোজক ছিলেন তরুণ দাস। নিয়ম মেনে সিনেমাটিতে কাজের জন্য অগ্রিম হিসেবে সোহমকে ১৫ লাখ রুপি দেওয়া হয়েছিল। সোহমের দাবি, পরবর্তীতে পরিচালক মহুয়া তাঁকে জানান যে তিনি প্রযোজকের ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না এবং সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর ধরে প্রকল্পটি বন্ধ ছিল এবং প্রযোজকের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

সম্প্রতি প্রযোজক তরুণ দাসের পক্ষ থেকে সোহমের অফিসে এসে এবং ফোনে সেই অগ্রিম ১৫ লাখ রুপি ফেরত চাওয়া হয়। কিন্তু কলকাতার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির (টলিউড) নিয়ম অনুযায়ী সোহম টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর যুক্তি, প্রযোজক নিজে সিনেমা তৈরি না করায় অগ্রিম টাকা ফেরতযোগ্য নয়। অন্যদিকে, প্রযোজকের দাবি ছিল সোহমের কাছ থেকে শিডিউল না পাওয়ার কারণে সিনেমাটি করা সম্ভব হয়নি— যা সোহম সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

টাকা ফেরত না দেওয়া প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সোহম চক্রবর্তী বলেন, “ইন্ডাস্ট্রির একটা নিয়ম আছে। কোনো প্রযোজক যদি নিজে ছবি না করেন, তবে সাইনিং অ্যামাউন্ট ফেরত দেওয়া হয় না। উনি (তরুণ দাস) দাবি করছেন, আমি নাকি ডেট দিইনি। কিন্তু পরিচালকই যেখানে সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, সেখানে ডেট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

সোহম আরও অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে প্রযোজক তরুণ দাস তাঁকে ফোনে চরম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে “তির-ধনুক চলবে, খেলা হবে” বলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এই ফোনকলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহম বলেন, “উনি যেভাবে আমাকে ফোন করে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

Translate