শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬

জাদুকরী এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে সিটি বিদায় নিয়ে শেষ ষোলোতে রিয়াল।

এমবাপ্পের জাদুতে সিটিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় রিয়াল

রিয়াল মাদ্রিদ ৩ : ১ ম্যানচেস্টার সিটি
(দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালের জয় ৬ : ৩ ব্যবধানে)

চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে মাঠে নামার আগে পেপ গার্দিওলা মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। প্রথমে নিজের দলের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ বললেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ। তবে খেলার পর হয়তো মনে হয়েছে, শেষ কথাটি বলা না গেলেই ভালো হতো!

কারণ, কিলিয়ান এমবাপ্পের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে সিটির সামান্য আশা সম্পূর্ণ নিভে গেছে।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোতেই সিটির সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ হয়ে যায়। প্রথম লেগে এক গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি তখন আরও ৩ গোলে পিছিয়ে। এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়াল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের পর সিটির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখার মতো সাহস হয়তো অন্ধ সমর্থকদেরও ছিল না। খেলার ফল তো বটেই, মানসিক ও শারীরিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদের সামনে যেন অসহায় হয়ে পড়ে সিটি। দ্বিতীয়ার্ধ ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় পায় রিয়াল, দুই লেগ মিলিয়ে যা ৬-৩।

এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে সিটিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় রিয়াল।

সিটির হতাশার অধ্যায় আরও দীর্ঘ

চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এমন বিদায়ে সিটির বাজে মৌসুমের হতাশা আরও বাড়ল। অন্যদিকে, এই জয় নিশ্চিত করল রিয়ালের শেষ ষোলোতে ওঠার পথ।

সিটিকে ম্যাচে ফেরাতে একটা গোল দরকার ছিল, কিন্তু ৫ মিনিটের মাথায় সেই গোল পায় রিয়াল। রাউল অ্যাসেনসিওর নিখুঁত পাসে এমবাপ্পে দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বল তুলে দেন গোলরক্ষক এদেরসনের মাথার ওপর দিয়ে। এতে দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালের লিড বেড়ে যায়।

সিটির দুর্ভোগ আরও বাড়ে যখন জন স্টোনস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর রিয়াল আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে সিটিকে চাপে ফেলে দেয়। প্রথম ২৫ মিনিটে সিটি লক্ষ্যে একটিও শট নিতে পারেনি!

৩৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে এমবাপ্পে কার্যত নিশ্চিত করেন সিটির বিদায়। প্রথমার্ধ শেষে দুই গোল নিয়েই বিরতিতে যায় রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়ালের আধিপত্য

বিরতির পরও ম্যাচের গতি বদলাতে পারেনি সিটি। ৬১ মিনিটে এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক পূরণ করলে সিটির আশা একেবারেই শেষ হয়ে যায়।

শেষ দিকে নিকো গঞ্জালেস সিটির হয়ে সান্ত্বনার গোল করলেও রিয়াল তখন অনেক দূরে।


অন্যান্য ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল

পিএসভি ৩ : ১ জুভেন্টাস
(দুই লেগ মিলিয়ে পিএসভির জয় ৪ : ৩)

প্রথম লেগে ২-১ গোলে জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল জুভেন্টাস, কিন্তু ফিরতি লেগে পিএসভি অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে।

পিএসজি ৭ : ০ ব্রেস্ত
(দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজির জয় ১০ : ০)

প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জিতে অনেকটাই নিশ্চিত ছিল পিএসজি। ফিরতি লেগে তারা ৭ গোলের দুর্দান্ত জয় পায়, যেখানে ৭টি গোল করেছেন ৭ জন আলাদা খেলোয়াড়—যা চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবার ঘটল।

বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ০ : ০ স্পোর্তিং লিসবন
(দুই লেগ মিলিয়ে ডর্টমুন্ডের জয় ৩ : ০)

প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জিতে নির্ভার ছিল ডর্টমুন্ড। দ্বিতীয় লেগ গোলশূন্য ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে শেষ ষোলোয় উঠে গেছে তারা।

Photo: AP News.

Translate