রবিবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬

পাকিস্তান প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে।

পাকিস্তান প্রথমবারের মতো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি), চীনের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো (স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন) এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, এই স্যাটেলাইটটি পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্যাটেলাইটের ক্ষমতা ও ব্যবহার।

পিআরএসসি-ইও ওয়ান নামের এই স্যাটেলাইটটি ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সরের মাধ্যমে সূর্যের আলো প্রতিফলন বা বিকিরণ শনাক্ত করে পৃথিবীর পৃষ্ঠের বিভিন্ন ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এটি প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্রায়ন, দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আধুনিক নগর পরিকল্পনা এবং কৃষিক্ষেত্রে উন্নত পদ্ধতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

উৎক্ষেপণের সঙ্গী চীনের স্যাটেলাইট।

এদিকে, একই দিনে চীনের লং-মার্চ টুডি ক্যারিয়ার রকেট আরও দুটি স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। সেগুলো হলো তিয়ানলু ওয়ান এবং ব্লু কার্বন ওয়ান, যা মূলত জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রসংক্রান্ত গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে।

পাকিস্তানের মহাকাশ সক্ষমতায় নতুন দিগন্ত।

উৎক্ষেপণের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, মহাকাশ গবেষণা এবং প্রযুক্তি বিকাশে পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সুপারকোর নেতৃত্বে এটি দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করেছে।

বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইটের বাজার।

বর্তমানে পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইটের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে এর মূল্যমান ছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে এটি ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি এবং বেসরকারি অর্থায়নে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান পিক্সেল দেশটির প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে।

এই সফলতার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নতুন করে বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণা অঙ্গনে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছে।

Translate