প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে। বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ নারীকে চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মা-বোনদের পাশে থাকা, তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেজন্য আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছি। এ বছর ৪১ লাখ মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। চার বছর ধরে এটি চলবে। অনেক মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ ব্যবস্থা করছি। তিনি বলেন, আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। কিছু দিনের মধ্যে সেই দামটি জানিয়ে দেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী দেখে এলাম। মীরসরাই থেকে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে দেখেছি। বিশাল সমুদ্রের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের জীবনমান উন্নত করা যায়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় সেজন্য মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম। চট্টগ্রামে চীনকে বড় একটা জায়গা দিয়েছি। সেখানে তারা কয়েকশ মিল কারখানা তৈরি করবে। সেখানে চট্টগ্রামের মানুষ কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। সেই মুদ্রা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারব।
তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত দেশে শান্তি শৃঙ্খলা। বাজারে গণ্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা চাইবে, সঠিকভাবে বন্দর থেকে যেন কাঁচামাল আসতে পারে। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।