বৃহস্পতিবার ২রা জুলাই, ২০২৬

পাইপলাইনে চসিকের সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্প

চট্টগ্রাম নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্মার্ট সিটি গঠন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ১১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এসব প্রকল্প চসিকের পাইপলাইনে রয়েছে এবং কয়েকটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বাজেট অধিবেশনে গতকাল ডা. শাহাদাত এই প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব ও বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২১টি খালসহ অন্যান্য খাল খনন প্রকল্প। যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

নগরীর প্রধান সড়কগুলোর উন্নয়নে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ‘প্রাথমিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রেল ক্রসিংগুলোর ওপর ওভারপাস নির্মাণে ১ হাজার কোটি টাকা এবং দেওয়ানহাট ব্রিজ নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্মার্ট ও নিরাপদ নগরী গঠনের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সিসিটিভি নজরদারিসহ স্মার্ট লাইটিং (সোলার ও নন-সোলার) স্থাপনের জন্য ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৪৫০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। নগরীর পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে একটি আধুনিক ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই খাতে আধুনিক যানবাহন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে ২৯৮ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্পও রয়েছে।

বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন’ নির্মাণ। নগরবাসীকে আধুনিক সেবা দিতে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন নগর ভবন নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, টেকসই ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরের পথ আরও সুগম হবে।

Translate