রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীর দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যার পর থেকে কালশী রোডের ফুলকলি ও আধুনিকের মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা। এতে করে ওই সড়কে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির। তিনি বলেন, “আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
বিক্ষোভকারীরা ‘তুমি কে আমি কে রামিসা রামিসা,’ ‘অপরাধীর আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তুলেন। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই একের পর এক এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে, আজ জুমার নামাজের পর মিরপুরের ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর পুলিশের অনুরোধে রাত ৭টা ২০ মিনিটে পর্যন্ত সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাট বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় রামিসার পরিবারকে দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।