থমাস ডুলি বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ। শুক্রবার (২২ মে) সকালেই ঢাকায় এসেছেন তিনি। আপাতত জার্মানির কোচের সামনে সান মেরিনো চ্যালেঞ্জ। ৫ জুন সেখানে গিয়ে খেলতে হবে। ডুলির আগে লাল-সবুজ দলে দুই ডজন বিদেশি কোচ কাজ করেছেন। তবে সফল হয়েছেন কমই।
জার্মানির ব্যাকেল হফট ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রথম বিদেশি কোচ। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর ১৯৮২ সালে কোচ হয়ে আসেন তারই দেশের গেরহার্ড স্মিথ।
ইউরোপের এই কোচ চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশের দৃষ্টি যায় এশিয়ার দিকে। ইরানের বিশ্বকাপে খেলা খেলোয়াড় পরবর্তিতে কোচ নাসের হেজাজি ১৯৮৯ তৃতীয় বিদেশি কোচ হিসেবে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন।
এরপর আবারও ইউরোপে ফেরা। ১৯৯৩ সালে সুইজারর্যান্ডের অলড্রিখ সোয়াব চতুর্থ কোচ হিসেবে আসেন বাংলাদেশে। এক বছর পর তার স্থলাভিষিক্ত হন দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যান ইয়াং ক্যাং।
এরপর আসেন জার্মানির অটো ফিস্টার। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭, এই দুবছর কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি। তার হাত ধরে ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারের গ্র্যান্ড রয়্যাল চ্যালেঞ্জ কাপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়।
ইরাকের সামির সাকির বাংলাদেশের সপ্তম বিদেশি কোচ। তার প্রশিক্ষণে ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমস ফুটবলে প্রথম সোনার পদক জেতে বাংলাদেশ। কিন্তু বিদায়টা সুখকর হয়নি তার। বাংলাদেশকে সোনার পদক জিতিয়ে দিয়ে অভিমানেই নেপাল থেকেই নিজ দেশে ফিরে যেতে হয় সাকিরকে।
অষ্টম বিদেশি কোচ হিসেবে ২০০০ সালে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন ইংল্যান্ডের মার্ক হ্যারিসন। সামির সাকিরের পথ অনুসরণ করতে হয় তাকেও। যদিও বেশিদিন ছিলেন না। ভুটানে দল নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ইংল্যান্ড ফিরে যেতে হয় হ্যারিসনকে।
এরপর বিদেশি কোচের তালিকায় নাম ওঠে জর্জ কোটানের। অস্ট্রিয়ার এই কোচের প্রশিক্ষণে প্রথমবার ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এরপর লাতিন আমেরিকার দিকে হাত বাড়ায় বাংলাদেশ। আর্জেন্টিনার আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি আসেন বাংলাদেশের দশম বিদেশি কোচ হয়ে। দুবছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার মেয়াদ কাল ছিল ২০০৪-২০০৬ সাল। তার অধীনে ২০০৫ সালে সাফে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ।
২০০৭ সালে আসেন ভারতের সৈয়দ নাঈমউদ্দিন। তবে সফল হতে পারেননি। চার মাসের দায়িত্ব পালন করেই সমালোচনার মুখে বিদায় নিতে হয়েছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রাজিলের এডসন সিলভা ডিডোর হাতে। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ওই বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। একসঙ্গে জাতীয় দলের আটজন খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেয়ায় ডিডোকে বরখাস্ত করা হয়।
বাংলাদেশের আরেকজন সফল কোচ সার্বিয়ার জোরান জার্জেভিচ। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, মাত্র এক মাস দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার এই এক মাসের দায়িত্ব পালনকালে এসএ গেমসে দ্বিতীয়বারের মতো সোনার পদক জেতে বাংলাদেশ। বেতন নিয়ে অযৌক্তিক দাবি তোলায় তাকেও পরবর্তিতে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
রাবার্ট রুবচিচ ছিলেন বাংলাদেশের ১৪তম বিদেশি কোচ। তিনি ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন। গত ২ জুন তিনি তার দেশ ক্রোয়েশিয়া চলে যান। অথচ তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ছিল এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
১৫তম কোচ মেসিডোনিয়ার জর্জি ভস্কি ২০ জুন বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেবেন। তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এক বছরের জন্য।
লুডউইক ডি ক্রুইফ, ফাবিও লোপেজ, টম সেন্টফিট, অ্যান্ড্রু ওর্ড, জেমি ডে, মারিও লেমস, অস্কার ব্রুজন ও হাভিয়ের কাবরেরা লাল-সবুজ দলের ডাগ আউটে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরমধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ছিলেন কাবরেরা। এবার নতুন কোচ ডুলি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।