চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রাতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে স্থানীয় এক ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছে বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে ৩০ বছর বয়সি মনিরকে আটক করে। এসময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে অভিযুক্তকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ জনতা সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকজন আহত হন। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে।
উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, “শিশুটির বাবা গতকাল ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টসে। তারা কেউ বাসায় না থাকলে এ দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর কাছে থাকেন। এ সুযোগে সন্দেভাজন মুনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। শিশুটিকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে ধর্ষণের বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, পুলিশ এলাকাটিতে বিভিন্ন সময়ে মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযানে গিয়ে শতাধিক আসামি গ্রেপ্তার করেছে। তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় এ কাজে চলে আসে। তাদের সাথে এলাকায় আধিপত্যবিস্তারকারী এবং কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যারা আছে, তারা ফেইসবুকে মেসেজ দিয়ে লোকজন জড়ো করে ফেলে। যে ভবনে অভিযুক্তকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর হামলা করা হচ্ছিল। সেজন্য সীমিত আকারে টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়। এ সময় আরও লোকজন জড়ো হয়ে যায় এবং ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে চেষ্টা করে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হবে বলে জানান তিনি।