চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে প্রত্যাখানের আহবান জানিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। শুক্রবার (২২মে) নগরের রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নূরুল হক এই আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এস এম নূরুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী আন্দোলনের মুখে চিটাগাং চেম্বারের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগে বাধ্য হয় এবং সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে সদস্য তালিকা যাচাই-বাছাই করে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ভুয়া সদস্য এবং তদন্ত প্রতিবেদনে অকার্যকর ঘোষিত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপগুলোকে বাদ দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সংগঠনকে ব্যবহার করে ছয়জন পরিচালককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার ব্যবস্থা করে। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল-এ ১১/২০২৫ নম্বর আবেদন করা হয়।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলাকালে চেম্বারের দুই সদস্য নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করলে ট্রাইব্যুনাল শুনানি কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরবর্তীতে মামলাটি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পূর্বের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয় এবং বাণিজ্য সংগঠন আইন, কোম্পানি আইন ও আয়কর আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে। কিন্তু এরই মধ্যে গত ১৮ মে নির্বাচন বোর্ড হঠাৎ করে আগামী ২৩ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক ব্যবসায়ী হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নির্বাচন আয়োজন করলে অধিকাংশ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন থাকলেও পুরোনো তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার পাশ কাটিয়ে একটি ‘নামকাওয়াস্তে নির্বাচন’ আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। পরে অপর পক্ষ চেম্বার জজ আদালতে গিয়ে ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ নেয়। একই সঙ্গে আগামী ৮ জুন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এ অবস্থায় আগামীকালের নির্বাচন আয়োজনকে “জোরপূর্বক” উল্লেখ করে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে চেম্বারের সদস্যদেরও ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এস এম নূরুল হক বলেন, আইন অমান্য করে এই অবৈধ নির্বাচন আমরা মানি না, যারাই এতে নির্বাচিত হবেন তারাও অবৈধ বলে বিবেচিত হবে আমাদের কাছে। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এস এম কামাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, নুরুল আবছার, মো. আজিজুল হক, মো. রাশেদ আলী, মো. মুসা, মো. আরিফ হোসেন, সাইয়েদ আল মামুন ও মাহবুব রানা প্রমুখ।