মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর কারাবন্দি নোবেল বিজয়ী সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, সু চির বাকি সাজা এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট বাসভবনে (গৃহবন্দি অবস্থায়) কার্যকর হবে।
এই ঘোষণার পরপরই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সু চির একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি একটি কাঠের বেঞ্চে বসে আছেন এবং পাশে রয়েছেন ইউনিফর্ম পরা দুই নিরাপত্তাকর্মী। সামরিক অভ্যুত্থানের পর গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই তার প্রথম কোনও প্রকাশ্য ছবি।
বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ১ হাজার ৫১৯ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হয়েছে। এই আদেশের অংশ হিসেবেই সু চির সাজা কমানোর পাশাপাশি বাকি বন্দিদের সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে। ২০২২ সালের শেষের দিকে বিভিন্ন অভিযোগে সু চিকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার সমর্থক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব অভিযোগ তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবং সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের বৈধতা অর্জনের একটি অপপ্রয়াস। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বার তার সাজা কমানোর ঘটনা। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে সু চির সাজার মেয়াদ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ বছরে। সেই হিসেবে তাকে এখনও ১৩ বছরের বেশি সময় সাজা ভোগ করতে হবে।
এদিকে সু চিকে গৃহবন্দি করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, অং সান সু চির সাজা কমিয়ে গৃহবন্দি করার সিদ্ধান্তটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে উত্তরণের জন্য অর্থবহ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে তিনি মিয়ানমারে সব রাজনৈতিক বন্দিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, সু চির আইনি দলের এক সদস্য রয়টার্সকে জানান, তারা সংবাদমাধ্যমের খবরে বিষয়টি জেনেছেন, কোনও আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি।