শুক্রবার ১লা মে, ২০২৬

সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে উন্মুক্ত হচ্ছে মরুভূমির মহাসড়ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়ে থাকে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।

গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেহরানের উপর চাপ সৃষ্টিতে গত ১৩ এপ্রিল থেকে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। যার ফলে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য রুটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমানে কন্টেইনারবাহী জাহাজগুলোর মালামাল গন্তব্যে পৌঁছাতে স্থলপথ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি।

লজিস্টিকস এবং সামুদ্রিক সূত্রগুলোর মতে, প্রণালিটি অবরুদ্ধ থাকায় জাহাজের মালিকরা খাদ্যসামগ্রী এবং শিল্পজাত পণ্য সরবরাহের জন্য বিকল্প স্থল করিডোর খুঁজে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সমুদ্রপথে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপকূলে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় এখন ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দর বর্তমানে একটি নতুন আঞ্চলিক ‘হাব’ বা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে এমএসসি, সিএমএ সিজিএম, মেয়ারস্ক এবং কসকো’র মতো সামুদ্রিক জায়ান্টদের জাহাজগুলো সুয়েজ খাল হয়ে এসে ভিড়ছে।

এরপর এসব পণ্যবাহী কার্গো মরুভূমির মহাসড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে শারজাহ, বাহরাইন এবং কুয়েতের মতো স্থানে পাঠানো হচ্ছে। যেসব জায়গায় গত দুই মাস ধরে সমুদ্রপথে কোনো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান ‘ওভারসি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা আর্থার বারিলাস ডি দ্য বলেন, ‘জেদ্দা বন্দর এই বিশাল পরিমাণ আমদানিকৃত পণ্য সামলানোর জন্য মোটেও প্রস্তুত নয় এবং সেখানে বর্তমানে একটি বন্দর জট পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।’

জাহাজ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত তিনটি বন্দরও ব্যবহার করবেন-ওমানের সোহার,এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান ও ফুজিরাহ বন্দর। এছাড়া জর্ডানের আকাবা বন্দর ইরাকের বাগদাদ ও বসরায় পণ্য পাঠানোর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং একটি তুর্কি করিডোর দিয়ে উত্তর ইরাকে পণ্য প্রবেশ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।

Translate