রবিবার ১৯শে জুলাই, ২০২৬

‘ধুরন্ধর’কে তুলনা ‘শোলে’র সঙ্গে!

হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্মাতা প্রিয়দর্শন তার প্রাক্তন সহকারী আদিত্য ধরের কথা বলেছেন, যিনি ‘ধুরন্ধর’র সাফল্যে ভাসছেন এখন।

বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর ২’ যখন ১৫০০ কোটি টাকার দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, তখন সিনেমাটির সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং চলচ্চিত্র জগতের ভেতরের মানুষেরা সমানভাবে আলোচনা করছেন। আদিত্য ধর পরিচালিত দুটি ‘ধুরন্ধর’ একসঙ্গে ২৪০০ কোটি টাকার বেশি আয় করে ‘বাহুবলী’কেও ছাড়িয়ে গেছে।চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রিয়দর্শন, যিনি এই চলচ্চিত্র এবং এর পরিচালকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তিনি এখন এটিকে আইকনিক ব্লকবাস্টার ‘শোলে’র সঙ্গে তুলনা করতেও দ্বিধা করছেন না।হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন আদিত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যিনি ‘আক্রোশ’ ও ‘তেজ’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। ‘আজ আদিত্য আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। আমি ওকে কিছুই শেখাইনি, কিন্তু কাজ করতে করতেই ও শিখেছে। ও নিজের কাজের মাধ্যমেই আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।’, বলেন এই প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। যিনি শিগগিরই ‘ভূত বাংলা’ নিয়ে ফিরছেন।

প্রিয়দর্শন ও আদিত্যের পরিচয় প্রায় দুই দশকের। ‘উরি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে আদিত্য শুধু প্রিয়দর্শনকে সহকারীই ছিলেন না, তার দুটি ছবিতে সংলাপ লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রিয়দর্শন স্বীকার করেন যে ‘ধুরন্ধর’ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। ‘ছবিটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ও (আদিত্য) বলিউড এবং ভারতীয় সিনেমার সম্পূর্ণ তত্ত্ব ভেঙে দিয়েছে। লোকে বলত ছবি এইভাবে বা ওইভাবে শুট করা উচিত। ও সবকিছু ভেঙে দিয়ে সফল হয়েছে।’, বলেন এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।
প্রথম ‘ধুরন্ধর’, যেখানে রণবীর সিং পাকিস্তানে কর্মরত একজন ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, যা গত বছর ডিসেম্বরে মুক্তি পায়। সেটি বিশাল সাফল্য ছিল এবং বিশ্বব্যাপী ১৩০০ কোটি রুপি আয় করে, যার মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই ৮৪০ কোটি রুপি নেট আয় হয়, যা বলিউডের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। এর সিক্যুয়েল, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ চলতি মাসের শুরুতে মুক্তি পায় এবং মাত্র ১১ দিনে ১৩৫০ কোটি রুপি আয় করে বক্স-অফিসের সমস্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দেয়। ছবিটি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে ‘দঙ্গল’কে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

ছবিটির ধরন এবং এতে আদিত্য ধরের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রিয়দর্শন বলেন, ‘ও যে বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন তা ঐতিহাসিক। এখন ও শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। ও (শোলের নির্মাতাদের) মতোই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

‘ধুরন্ধর ২’-এ আরও অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী, সারা অর্জুন এবং দানিশ পান্ডোর।

বলা দরকার, মূলত যুগান্তকারী মালয়ালাম চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত প্রিয়দর্শন। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত হিন্দি সিনেমায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। এরপর তিনি মালয়ালাম চলচ্চিত্রে ফেরার জন্য বলিউড থেকে বিরতি নেন। ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাঙ্গামা ২’-এর মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের জন্য ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু এই বছর থেকে, এই প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা অক্ষয় কুমার অভিনীত তিনটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে পুরোদমে ফিরছেন। এর মধ্যে প্রথমটি হলো হরর-কমেডি ‘ভূত বাংলা’, যা এপ্রিলে মুক্তি পাবে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Translate