রবিবার ৩রা মে, ২০২৬

শবে বরাত ও রমজানের আগেই বাজার চড়া: সবজিতে স্বস্তি থাকলেও অস্বস্তি মাংসে

রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও মাংস, সুগন্ধি চাল এবং আমদানিকৃত গুঁড়ো দুধের দাম নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে ক্রেতাদের। আসন্ন শবে বরাত ও রমজানকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বাজারে সিন্ডিকেট ও সরবরাহকারীদের কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সবজি ও আলুর বাজারে স্বস্তি

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর পুরান ঢাকার নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজারসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজি এখন ৬০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০–৪০ টাকা এবং প্রকারভেদে শিম ৩০–৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। কুমড়া, মুলা, পেঁপে, শালগম ও ব্রকলির দামও বেশ সহনীয়। সবচেয়ে বেশি স্বস্তি মিলেছে আলুতে; কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি আলু এখন ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পুরান ঢাকার নারিন্দার কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী কুদ্দুস বলেন, “শীতের সবজি এখন সহনীয় দামেই বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ ভালো থাকায় দামও বেশ সহনীয়। যদিও শসা ও কাঁচা মরিচের দাম একটু বাড়তি। সামনে রোজা তো এই কারণেই।”

বেড়েছে মাংস ও ডিমের দাম

সবজিতে স্বস্তি থাকলেও মুরগি ও গরুর মাংসের বাজার বেশ চড়া। জানুয়ারির শুরুতে ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। গরুর মাংসের কেজি এলাকাভেদে ৮০০ টাকার ওপরে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

রায়সাহেব বাজারে মুরগি কিনতে আসা ক্রেতা কবির বলেন, “দীর্ঘদিন ১৬০ টাকা কেজি গেছে ব্রয়লার মুরগি। ডিসেম্বর শেষে আয়োজন থাকে মানুষের বাসায় তখনও ১৬০ টাকা ছিল। এখন রোজা উপলক্ষে ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা হয়ে গেছে।”

সুগন্ধি চাল ও গুঁড়ো দুধে বাড়তি খরচ

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া চাল এখন ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের গুঁড়ো দুধের দামেও বড় প্রভাব পড়েছে। নেসলের ল্যাকটোজেন ও ন্যান দুধের দাম প্যাকেটপ্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। আড়াই কেজির নিডো দুধের দাম ২৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০০ টাকা। এছাড়াও সব ধরনের চা পাতার দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

দাম বাড়ার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে বিক্রেতারা বলছেন, রোজা ও ঈদে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারীরা দাম বাড়িয়েছে।

মশলার বাজারে আগুন

সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা মশলার বাজারে। ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩২০০ টাকার এলাচ এখন ৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ টাকার আলু বোখারা ৮০০ টাকা এবং ৫০০ টাকার কিশমিশ ৯০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঠবাদাম ও অন্যান্য শুকনো ফলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এছাড়া মানভেদে প্রতিকেজি আদা ও রসুন ১৪০-২২০ টাকায়, চিনি ৯৮-১০৫ টাকায়, পেঁয়াজ ৫০-৭০ টাকায়, ছোলা ৮০-১০০ টাকায়, মানভেদে মশুর ডাল ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, চাল, ডাল এবং তেলের মতো নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

Translate